কুমিল্লায় তিন খুনের মামলায় পলাতক তিন কাউন্সিলর

সেবাবঞ্চিত নগরবাসী

মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি

আধিপত্য বিস্তার ও কোন্দলের জেরে কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকর যুবলীগ কর্মী জিল্লুর রহমান চৌধুরী ওরফে জিলানী, আওয়ামী লীগ কর্মী ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন এবং ছাত্রলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন খুনের মামলার আসামি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) তিনটি ওয়ার্ডের তিন কাউন্সিলর পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন কুসিকের ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আবুল হাসান, ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুস সাত্তার ও ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলমগীর হোসেন। ঐ তিন কাউন্সিলর পলাতক থাকায় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের জনগণ নানা নাগরিকসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং এতে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে জানা গেছে। 

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নগরীর চৌয়ারা পুরাতন বাজার এলাকায় গত ১১ নভেম্বর প্রকাশ্যে স্ত্রীর সামনে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নৃশংসভাবে খুন করা হয় যুবলীগ কর্মী জিল্লুর রহমান চৌধুরী ওরফে জিলানীকে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আবুল হাসানকে প্রধান আসামি ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুস সাত্তারকে ২ নম্বর আসামি করে ২৪ জনের নামে মামলা করেন নিহতের ভাই ইমরান হোসেন চৌধুরী। এর আগে চলতি বছরের ১০ জুলাই নগরীর চাঙ্গিনী এলাকায় আওয়ামী লীগ কর্মী ব্যবসায়ী আক্তার হোসেনকে জুমার নামাজের পর মুসল্লিদের সামনে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রেখা বেগম বাদী হয়ে ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলমগীর হোসেনকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন। এছাড়া দুই বছর আগে ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের শামবক্সি (ভল্লবপুর) এলাকায় সন্ত্রাসীরা ছাত্রলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেনকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে। দেলোয়ার খুনের মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে। এ মামলায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর পিবিআই আনোয়ার হোসেন নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করে।

পিবিআই কুমিল্লার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, জিজ্ঞাসাবাদে সে (আনোয়ার) দেলোয়ার হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। এতে আনোয়ার বলেছেন, ছাত্রলীগ নেতা দেলোয়ার হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুস সাত্তার। চাঞ্চল্যকর এসব খুনের ঘটনার পর থেকেই ঐ তিন কাউন্সিলর পলাতক রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও কোন্দলের জেরে এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এসব হত্যা মামলার আসামি ঐ তিন কাউন্সিলর পলাতক থাকায় জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু সনদ, নাগরিক ও ওয়ারিশ সনদসহ নানা বিষয়ে নাগরিকদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ বিষয়ে হত্যা মামলার আসামি ঐ তিন কাউন্সিলরের সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও ফোন বন্ধ পাওয়ায় তাদের বক্তব্য জানা যায়নি। সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ বলছে, আসামিরা পলাতক রয়েছে, তাদের গ্রেফতারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।