এনআইডিকে অধিদপ্তর করার পরিকল্পনা ইসির

জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগকে (এনআইডি) অধিদপ্তর করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এনআইডি ইসির হাতছাড়া হচ্ছে-এমন খবর চাউর হওয়ার পর থেকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তরের জন্য সাংগঠনিক কাঠামো কেমন হওয়া উচিত—এর একটি রূপরেখা দাঁড় করিয়েছে কমিশন। অধিদপ্তর করার ক্ষেত্রে ইসির কমিশনের নীতিনির্ধারকদের যুক্তি হচ্ছে, ভোটার জাতীয় পরিচয়পত্রের কাজের ক্ষেত্র ও পরিধি দিন দিন বাড়ছে। অনুবিভাগ দিয়ে এগুলো সঠিকভাবে তদারকি, সংরক্ষণ এবং সেবা প্রদান সম্ভব হবে না। তাই আগাম চিন্তা থেকেই অধিদপ্তর করা হচ্ছে। এতে কমিশনের অঙ্গহানি হওয়ার সুযোগ নেই। বরং কাজের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতাও বহুলাংশে বাড়বে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, এনআইডি উইংকে অধিদপ্তরে রূপ দেওয়ার প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখন সাংগঠনিক কাঠামো তৈরির কাজ চলছে।

ইসি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এনঅইডি উইংকে অধিদপ্তর করার জন্য এনআইডি উইংয়ের বিভিন্ন শাখা-উপশাখা-অধিশাখা এবং ইসির মাঠ অফিসের কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সহায়তা নেওয়া হয়েছে। এগুলো  সমন্বয় করে সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখতে কাজ চলছে সাংগঠনিক কাঠামো কমিটির আহ্বায়ক ও ইসির যুগ্মসচিব (প্রশাসন) শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে। সাংগঠনিক কাঠামো কেমন হবে—এ সংক্রান্ত তথ্য সমন্বয় করে একটা ওয়ার্কশপ করা হবে। কবে কখন এটি হবে, সেটা সিদ্ধান্তের জন্য কমিশন ও সচিবালয়ের মতামত লাগবে। সেখানে অভিজ্ঞজনদের মতামত পেলে তার আলোকে সাংগঠনিক কাঠামো চূড়ান্ত করে সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এনআইডির কাজের পরিধি ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ছবিসহ ভোটার পরিচয়পত্রের পর যোগ হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সুবিধাসংবলিত স্মার্ট কার্ড প্রকল্প। ২০২২ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সবাইকে দেওয়া হবে এ কার্ড। দেশের প্রাপ্ত নাগরিকদের প্রতি বছর হালনাগাদ করার মাধ্যমে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে চলে হারানো কার্ড উত্তোলন, সংশোধন ও ঠিকানা স্থানান্তরের কাজ। এবার নতুন যোগ হয়েছে প্রবাসীদের ভোটার করার কার্যক্রম, যা বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারণে থমকে আছে।

প্রথম দিকে এনআইডিকে অধিদপ্তর করার জন্য ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছুটা বিরোধিতা থাকলেও সময়ের পট পরিবর্তনে এখন অনেকটা নমনীয়। কারণ এনআইডির কাজের ক্ষেত্র যেমন বেড়েছে, জনসংখ্যানুপাতে বছর বছর ছবিসহ ভোটার ও জাতীয় পরিচয়পত্রের পরিধি বাড়ছে। বর্তমানে প্রায় ১১ কোটি নাগরিকের ডাটাবেইজ ইসির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। এই কার্যক্রমকে স্থায়ী রূপ দিতে অধিদপ্তর করাই শ্রেয় বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। তবে, এর নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্ব থাকতে হবে তাদের অধীনে। একই সঙ্গে সাংগঠনিক কাঠামো যেটাই দাঁড় করানো হোক, নিম্নপদস্থ থেকে যুগ্মসচিব পদ পর্যন্ত কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

একাধিক নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন, যে কোনো অধিদপ্তর মন্ত্রণালয় বা সচিবালয়ের অধীনে থাকে। সচিবালয়ের নিদের্শনায় এটা চলবে। মূলত ভোটার জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগকে বিলুপ্ত করে অধিদপ্তর করা হচ্ছে, শুধু কাজের চাপ (লোড) কমানোর জন্য। এরই মধ্যে বাস্তবায়িত হওয়া অধিদপ্তরগুলো যে নিয়মনীতি অনুসরণ করে কাজ করছে; এটাও সেভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।