পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী হতে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা সমপর্যায়ের পদাধিকারী বা তাদের নিকট থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বাক্ষরিত একটি প্রত্যয়নপত্র লাগবে। তবে কোনো দল কোনো পৌরসভায় মেয়র পদে একাধিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিতে পারবে না, একাধিক প্রার্থী দিলে সংশ্লিষ্ট পৌরসভায় দলের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হবে। এ সংক্রান্ত চিঠি রাজনৈতিক দলগুলোকে পাঠিয়েছে ইসি।
অন্যদিকে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট পৌরসভার ১০০ জন ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে রিটার্নিং অফিসারে কাছে জমা দিতে হবে। তালিকায় নির্ধারিত সংখ্যার কম বা ক্রমিকে তথ্যের গরমিল থাকলে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হবে। এসব বিধি-বিধানসংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
লাগবে টিআইএন :এদিকে প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র দাখিলের আগেই তপশিলি ব্যাংকে একটি নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। যার নম্বর, ব্যাংক ও শাখার নাম মনোনয়নপত্রে উল্লেখ করতে হবে। নির্বাচনের সব ব্যয় এই অ্যাকাউন্ট থেকেই করতে হবে। আর নির্বাচনের পরে নির্বাচনি ব্যয়ের রিটার্নের সঙ্গে এই অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট জমা দিতে হবে। এছাড়া মেয়র, সংরক্ষিত কাউন্সিলর ও সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রে ১২ ডিজিটের টিআইএন নম্বর উল্লেখ করতে হবে এবং সর্বশেষ জমা দেওয়া আয়কর রিটার্নের রসিদের কপি মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করতে হবে।
ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পৌরসভা বা ওয়ার্ডের ভোটার তালিকার সিডি ক্রয় করতে হবে। প্রতি ওয়ার্ডের ভোটার তালিকার সিডির মূল্য ৫০০ টাকা।
মেয়র পদের জামানত ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা : মেয়র পদে নির্বাচনের ক্ষেত্রে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে অনধিক ২৫ হাজার ভোটার-সংবলিত নির্বাচনি এলাকার জন্য ১৫ হাজার টাকা, ২৫ হাজার ১ হতে ৫০ হাজার ভোটার-সংবলিত নির্বাচনি এলাকার জন্য ২০ হাজার টাকা, ৫০ হাজার ১ হতে ১ লাখ ভোটার-সংবলিত নির্বাচনি এলাকার জন্য ২৫ হাজার টাকা এবং ১ লাখ ১ ও তদূর্ধ্ব ভোটার-সংবলিত নির্বাচনি এলাকার জন্য ৩০ হাজার টাকার ট্রেজারি চালান বা কোনো তপশিলি ব্যাংকের পে-অর্ডার বা পোস্টাল অর্ডার জমা দিতে হবে। আর কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করতে হলে ৫ হাজার টাকার ট্রেজারি চালান বা কোনো তপশিলি ব্যাংকের পে-অর্ডার বা পোস্টাল অর্ডার জমা দিতে হবে।
প্রার্থীকে দিতে হবে হলফনামা : মেয়র, সংরক্ষিত কাউন্সিলর ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক প্রার্থীকে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামা দাখিল করতে হবে। এতে সাতটি তথ্য দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—তার (প্রার্থীর) সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেটের সত্যায়িত কপি; বর্তমানে তিনি কোনো ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত আছেন কি না; তার বিরুদ্ধে অতীতে দায়েরকৃত কোনো ফৌজদারি মামলার রেকর্ড আছে কি না, থাকলে সেটির রায় কী ছিল; তার ব্যবসা বা পেশার বিবরণী; তার আয়ের উত্স; তার নিজের ও অন্যান্য নির্ভরশীলদের সম্পদ ও দায়ের বিবরণী এবং কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে একক বা যৌথ বা তার ওপর নির্ভরশীল সদস্য কর্তৃক গৃহীত ঋণের পরিমাণ অথবা কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা পরিচালক হওয়ার সুবাদে ওই প্রতিষ্ঠান হতে গৃহীত ঋণের পরিমাণ।
প্রস্তাবক ও সমর্থক : কোনো ভোটার প্রস্তাবকারী হিসেবে অথবা সমর্থনকারী হিসেবে মেয়র অথবা সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর বা সাধারণ আসনের কাউন্সিলর পদের প্রার্থীর একটির অধিক মনোনয়নপত্রে তার নাম ব্যবহার করবেন না। যদি কোনো ভোটার একই পদে একাধিক মনোনয়নপত্রে তার নাম ব্যবহার করেন, তা হলে সংশ্লিষ্ট মনোনয়পত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।