গর্ভপাতের অভিজ্ঞতার কথা জানালেন মেগান মার্কেল

গোটা বিশ্ব যখন করোনা মহামারির সঙ্গে লড়াই করছে, তখন নতুন এক দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছে ব্রিটেনের রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলকে। তাকে সইতে হয়েছে সন্তান হারানোর যন্ত্রণা। পশ্চিমা দুনিয়ায়ও মেয়েরা সাধারণত গর্ভপাতের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে চান না। কিন্তু সেই প্রথা ভেঙে এবং ঐ সব নারীর সাহস জোগাতে নিজের গর্ভপাতের কথা জানিয়েছেন মেগান মার্কেল। ব্রিটেনের রাজপ্রাসাদ এটাকে মেগানের ব্যক্তিগত বিষয় উল্লেখ করে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। খবর সিএনএন ও রয়টার্সের

মার্কিন প্রভাবশালী মিডিয়া নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় লেখা এক নিবন্ধে ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মার্কেল লিখেছেন, ‘গত জুলাইয়ের এক সকালে ছেলে আর্চির ডায়াপার পরিবর্তন করছিলাম। হঠাত্ তলপেটে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হয়। ছেলে কোলে থাকা অবস্থায়ই মাটিতে পড়ে যাই। তখনো গান শোনাচ্ছিলাম ছেলেকে। তবে বুঝতে পারছিলাম যে কিছু একটা ঠিক নেই। আর্চিকে ধরে রাখা অবস্থায়ই বুঝতে পারছিলাম যে দ্বিতীয় সন্তানকে হারাচ্ছি। পুরো ঘটনায় হ্যারি ভেঙে পড়লেও হাসপাতালে আমাকে সামলাতেই সে ব্যস্ত ছিল। এই যন্ত্রণা কাটিয়ে ওঠা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় ছিলাম। তবে এটা ভেবে চিন্তা দূর করছিলাম যে অনেক মেয়েরই তো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।’

আমেরিকান কলেজ অব অবসটেট্রিসিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টের তথ্যমতে, ১০ শতাংশ নারী সন্তান হারান গর্ভপাতের মাধ্যমে। কিন্তু বেশির ভাগই তার নিয়োগকর্তার কাছে বিষয়টি প্রকাশ করতে দ্বিধাবোধ করেন। অর্থাত্, লোকলজ্জার ভয়ে অনেকের বুক ফাটলেও মুখ ফোটে না। ৮০ শতাংশ নারীর গর্ভপাত হয় গর্ভধারণের শুরুর দিকে। কিন্তু অনেক নারী আছেন, যারা ১২ সপ্তাহ না হওয়া পর্যন্ত গর্ভধারণের কথা জানাতেই চান না। ২০১৯ সালের ৬ মে মেগানের প্রথম সন্তান আর্চি হ্যারিসন মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের জন্ম হয়।