এদেশের আধুনিক গানের অনবদ্য সুরকার ও সংগীত পরিচালক মান্নান মোহাম্মদ। মান্নান মোহাম্মদ সুরারোপিত জনপ্রিয় গানের তালিকাও দীর্ঘ। এর ভেতরে রয়েছে মিতালী মুখার্জী ও এন্ড্রু কিশোরের গাওয়া ‘প্রতিদিন ভোর হয় সূর্য ওঠে’, বেবি নাজনীনের গাওয়া ‘দু-চোখে ঘুম আসে না’, এন্ড্রু কিশোরের ‘মনে কয় গাঁয়ে ফিরে যাই’, খালিদ হাসান মিলুর ‘মাটির মানুষ মাটি হয়ে যায়’, সেলিম চৌধুরীর ‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’সহ অগণিত গান। বর্তমান গান ও পরিকল্পনা প্রসঙ্গে বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন তানভীর তারেক
কেমন আছেন?
কেমন আর থাকবো? এই সময়ে নিজে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রেখে যতটুকু ভালো থাকা যায়।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে নিয়মিত গান প্রকাশ করছেন। হঠাত্ করেই এই উদ্যোগের কারণ কী?
উদ্দেশ্য একটাই— নিজের একটি ঘর তৈরি করা। আমরা তো শিল্পী। বাউন্ডুলে। এই হাত দিয়ে বাজিয়ে কতশত সুর বেঁধেছি। কতজন শিল্পীর তারকাখ্যাতি হয়েছে আমার গানে। কত কোম্পানি আজ প্রতিষ্ঠিত। এগুলোই আমার প্রাপ্তির আনন্দ। কিন্তু শুধু আনন্দে তো পেট চলে না। তাই মনে হলো নিজের মতো করে কিছু একটা করে রাখি।
আপনার ইউটিউবে গান রিলিজে অনেক নতুন গায়ক-গায়িকাদের সুযোগ করে দিচ্ছেন। এর বিশেষ কোনো কারণ—
পরিকল্পনা একটাই। আমার এই যে কয়েক হাজার সুর করা রয়েছে। তার সবগুলো তো আবার রি অ্যারেঞ্জ করতে পারবো না? তাহলে তো আরো একটা জনম লাগবে। তবে পছন্দের সুরগুলো নতুনভাবে মিউজিক অ্যারেঞ্জমেন্ট করে নতুনদের দিয়ে গাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছি। কারণ গানগুলো সব আমার সম্পদ। এগুলো সিগনেচার করে যেতে চাই।
এখন তো কপিরাইট বিষয়ে অনেকেই সচেতন হচ্ছেন। আপনার নিজের গানের ব্যাপারে কী বলতে চান?
এটা আমাদের জন্য খুবই সুসংবাদ। দেখুন, আমার এই সংগীতজীবনে এই গানগুলোই তো আমার আশ্রয়। এর সুরক্ষা যদি অন্তত ১০ বছর আগে থেকেও হতো তাহলে আজ এই পরিণত বয়সে চিন্তা করতে হতো না। আজ আমার রয়ালিটি ঠিকমতো পেলে তিন পুরুষের অর্থের জোগান হয়ে যেত। এরপরও এর কার্যকারীতা নিয়ে আমাদের সকলেরই সজাগ হওয়া উচিত।
এছাড়া অনেকগুলো সংগঠন কার্যকর হতে চলেছে। এখানে কতটা আশা দেখেন?
দেখুন, আজ থেকে তো সংগঠন করছি না আমি। এই যুদ্ধ আমার অনেক পুরনো। আলাউদ্দিন আলী ভাইসহ আমরা সেই এলসিএস করলাম। এখন তো সুরকার, গীতিকার সকলেই সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু আসল কথা কী সংগীত সংগঠনগুলোর সমন্বয়ের বড় অভাব। আমরা মিটিংয়ে খুব একতার কথা বলি। কিন্তু মিটিং শেষে বের হয়েই শুরু করি একজন আরেকজনকে নিয়ে উল্টো বাহাস। নয়তো অনেকগুলো সংগঠনই তো করলাম, এখনও আছি। কিন্তু যে গাছেই বসি সেই ডালই ভেঙে পড়ে!
নিজের ইউটিউব চ্যানেল নিয়ে আগামী পরিকল্পনাগুলো কী?
প্রতি বুধবারে একটি করে গান রিলিজ করছি। নিজের পুরনো, নতুন সুরের গান একাধিক শিল্পীর কণ্ঠে। খুব অল্প সময়ে দারুণ সাড়া পাচ্ছি। আশা করি সকলেই সংযুক্ত থাকবেন।