রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব পাচ্ছে সিটি করপোরেশন

ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি নিষ্কাশনের দায়িত্ব ওয়াসার কাছ থেকে সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে নগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসনের পুরো দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের ওপর যাবে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সভা শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম। হস্তান্তর কাজটি কীভাবে সুচারুভাবে সম্পন্ন করা যায়, এ জন্য একটি কারিগরি কমিটিও গঠন করা হয়েছে, যা আগামী ৩০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেবে। সেই রিপোর্টের আলোকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘এক সময় খালের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের হাতেই ছিল। আইনেও তাই আছে। পরবর্তীকালে কোনো এক সময়ে রাষ্ট্রপতির আদেশে সেটি ঢাকা ওয়াসার হাতে দেওয়া হয়। এখন দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র খালের দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সবাই মিলে আলোচনায় বসে আমরা ওয়াসা        থেকে দুই সিটি করপোরেশনের কাছে খালসমূহ হস্তান্তরের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর ঢাকা শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ এতদিন ওয়াসা দায়িত্ব পালন করেছে। দায়িত্ব হস্তান্তরের পর দুই সিটি করপোরেশন পালন করবে। পানি নিষ্কাশনের জন্য জনবল, যন্ত্রপাতিসহ সবকিছুই সিটি করপোরেশনের আছে। দুই মেয়র এ কাজ স্বতঃস্ফূর্তভাবে করতে পারবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’

এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আজকের দিনটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা দুই সিটির মেয়র চেয়েছিলাম ঢাকা শহরের খালগুলো আমাদের আওতায় দিতে। আজ সে বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা জনগণের পাশে থেকে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে জনগণকে রক্ষার চেষ্টা করব।’ তিনি বলেন, ‘আমরা খালগুলো থেকে পেয়েছি ফ্রিজ, টিভি, জাজিমসহ ডাবের খোসা। এছাড়া খালের দুই পাশ অবৈধভাবে দখল হয়ে গেছে। সেগুলো উদ্ধার করব। খালগুলো আরো গভীর করা এবং দুই পাড়ে সাইকেল লেন, ওয়াকওয়ে এবং গাছ দিয়ে দৃষ্টি নন্দন পার্ক করা অবশ্যই একটি কঠিন কাজ। সদিচ্ছা থাকলে আমাদের নদীগুলোর মতো খালগুলোও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দখলের কবল থেকে উদ্ধার করতে পারব। সরকারি জমি অন্য কেউ দখল করে নিয়ে যাবে, আর আমরা চেয়ে চেয়ে দেখব—সে দিন শেষ। এক্ষেত্রে আইনের প্রয়োজন হলে নেব।’

দক্ষিণ সিটি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, আজকে আমরা দীর্ঘ দিনের পুঞ্জিভূত সমস্যা নিরসনে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি। প্রায় ৩০ বছরের বেশি সময় ঢাকাবাসী দুর্ভোগে নিমজ্জিত ছিল। আমি আশাবাদী সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের কাজের মাধ্যমে অচিরেই ঢাকাবাসীকে এর সুফল দিতে পারব।