১০ নম্বর জার্সি ও জাতীয় পতাকায় ঢেকে দেওয়া হয় ম্যারাডোনার কফিন

বুয়েনস আয়ার্সের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেস কাসা রোসাদায় নিয়ে যাওয়া হয় ফুটবলের জাদুকর ম্যারাডোনার মরদেহ। সেখানে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে লাখ লাখ ভক্ত ভিড় করেন। ম্যারাডোনার কফিন ১০ নম্বর জার্সি ও আর্জেন্টিনার পতাকা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল। শেষবার দেখতে আসা ভক্তদের ভিড় সামাল দিতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। বেলাভিস্তা সেমেট্টিতে বাবা-মায়ের পাশে তাকে সমাহিত করার কথা রয়েছে। বুধবার আর্জেন্টিনার সময় দুপুরে মারা যান বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক ম্যারাডোনা। সন্ধ্যায় তার মরদেহ বুয়েনস আয়ার্সের তিগ্রিতে বাসভবন থেকে ময়নাতদন্ত করার জন্য মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়।  সেখান থেকে প্রেসিডেন্ট প্যালেসে নেওয়া হয়। যাওয়ার পথে পথে মানুষ কেঁদেছেন, লাশবাহী গাড়ি দেখে চিত্কার করেছেন। দৌড়ে ছুটে লাশবাহী গাড়ির কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন ম্যারাডোনার ভক্তরা।

এদিকে ফুটবলের জাদুকরের পায়ে একে একে সব অর্জন যেমন লুটিয়ে পড়েছে, তেমনি বিতর্কও ছিল তার সব সময়ের সঙ্গী। মাদকাসক্তি ছিল সেই বিতর্কের সবচেয়ে প্রধান বিষয়। ১৯৯১ সালে ইতালিতে ড্রাগ টেস্টে কোকেন ধরা পড়লে ১৫ মাসের জন্য ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ হন তিনি। আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত কোকেনে আসক্তি ছিল ম্যারডোনার।  কোকেনের নেশা থেকে মুক্তি পেতে আর্জেন্টিনা ছেড়ে কিউবায় যান। পরে চিকিত্সকেরা জানান, অতিরিক্ত কোকেন সেবনের কারণে মায়োকার্ডিয়াল ইনফেকশন হয়েছে ম্যারাডোনার। ২০০৯ সালে ইতালিয়ান কর্মকর্তারা ঘোষণা করেন, ইতালীয় সরকারের কাছে করের ৩৭ মিলিয়ন ইউরো ঋণ রয়েছে ম্যারাডোনার। এর মধ্যে ২৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন ইউরো তার মূল ঋণের ওপর জমা সুদ। এর মধ্যে তিনি মাত্র ৪২ হাজার ইউরো শোধ করেছেন।

ম্যারাডোনা বান্ধবী অলিভার মামলায় ২০১৯ সালে গ্রেফতার হন। ২০০৭ সালের আগস্টে ভেনেজুয়েলার প্রেসিন্টে হুগো শ্যাভেজের একটি সাপ্তাহিক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে যা আসে, সবকিছুকেই আমি ঘৃণা করি। একই বছরের ডিসেম্বরে ম্যারাডোনা ইরানের জনগণকে সমর্থন জানানোর জন্য স্বাক্ষরকৃত শার্ট উপস্থাপন করেন।

ম্যারাডোনা বামপন্থী ছিলেন না, কিন্তু কিউবার ফিদেল কাস্ত্রোর খুব বড়ো ভক্ত ছিলেন। তার ডান হাতে আঁকা ছিল চে গুয়েভারার উলকি। আর মুখে হাভানা চুরুট নিয়ে বারবার আলোচনায় এসেছেন। ম্যারাডোনার শরীরে কাস্ত্রোর প্রতিকৃতির ট্যাটু ছিল।

ম্যারাডোনা-ম্যাডোনা বিভ্রান্তি

ম্যারাডোনার মৃত্যুর খবরে বিভ্রান্তি হয়েছে বলে টুইট করে জানিয়েছেন মার্কিন পপস্টার ম্যাডোনা। নামের সঙ্গে মিল থাকায় ম্যারাডোনাকে ম্যাডোনা শুনে ম্যাডোনার অনেক ভক্ত তাকে শোক জানিয়েছেন। পরে ম্যাডোনা নিজে টুইট করে জানিয়েছেন, ফুটবল কিংবদন্তি ম্যারাডোনা মারা গেছেন।