চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে মোট ১ হাজার ৮৬ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২৭৭ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৫০ জনকে এবং আত্মহত্যা করেছেন ২৯ জন। উল্লেখ্য, চলতি বছরের এই ১০ মাসের মধ্যে ৭ মাসই করোনার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বন্ধ ছিল।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) ‘নারী ও মেয়েশিশুর প্রতি সহিংসতা মোকাবিলায় তৃণমূল সংগঠনের সাড়া ও উদ্যোগ’ বিষয়ক ওয়েবিনারে এই তথ্য জানায়। এমজেএফের কর্ম এলাকায় করা টেলিফোন জরিপ থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
ওয়েবিনারে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপারসন নাসিমা বেগম বিভিন্ন নারী নির্যাতনের কথা তুলে ধরে বলেন, এ ক্ষেত্রে সেবা প্রদানকারী বিভিন্ন সংস্থাকে দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। এজন্য সমাজের বিভিন্ন সেক্টরকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, যেসব সংস্থা নারীর প্রতি সহিংসতা রোধকল্পে কাজ করছে; যেমন স্বাস্থ্যসেবা, পুলিশ ও বিচারব্যবস্থা—তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে স্বচ্ছতার সঙ্গে। আমরা চাই সব সেক্টরের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ ও সহযোগিতা। সবচেয়ে বড় কথা নারীদের মর্যাদা দিতে হবে।
বিশেষ অতিথি ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেভলপমেন্ট ডিরেক্টর জুডিথ হারবার্টসন বলেন, আমরা নারী ও মেয়েশিশুর প্রতি সহিংসতাকে মনে করি আরেকটি মহামারি, যার শিকড় প্রোথিত আছে সমাজে নারী ও পুরুষের মধ্যে অসম ক্ষমতা ভাগাভাগির মধ্যে।
ওয়েবিনারে আরো জানানো হয়, করোনাকালে অর্থাত্ এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলায় ৩৭ হাজার ৯১২ জন নারী পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৪৮৫ জন প্রথমবারের মতো সহিংসতার শিকার হন। সুপারিশমালায় বলা হয়েছে :ভার্চুয়াল কোর্ট যেন কোনো বাধা ছাড়াই কাজ করতে পারে, এজন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ধর্ষণ, বাল্যবিবাহ, পারিবারিক নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ বন্ধে বড় ধরনের প্রচারণা চালাতে হবে। ওয়েবিনারে অন্যদের মধ্যে মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের নারীর প্রতি সহিংসতা বিষয়ক প্রকল্প পরিচালক ড. আবুল হোসেন ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ইনসপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ সাহেলি ফেরদৌস বক্তব্য রাখেন।