বারমুডা ট্রায়াঙ্গল রহস্যের আলো-আঁধারিতে ছেয়ে থাকা এক সমুদ্রক্ষেত্র। যাকে নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই, কিন্তু রহস্যের সমাধান আজো অধরা। বারমুডা ট্রায়াঙ্গল ‘শয়তানের ত্রিভুজ’ নামেও অধিক পরিচিত। এই রহস্যময় জায়গাটি নিয়ে রয়েছে হাজারো গল্প এবং মিথ। এই এলাকায় কোনো জাহজ কিংবা বিমান গেলে তা আর কখনো ফিরে আসতে পারে না বলে জনশ্রুতি রয়েছে। বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে জাহাজ অথবা বিমান নাকি তাদের সিগন্যাল হারিয়ে ফেলে, আর বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এখানে কম্পাসের কাঁটা এলোমেলো দিক দেখায়, অদ্ভুত সব আলোর নাচানাচি দেখা যায়, আর ঝড়-জলোচ্ছ্বাস চলতে থাকে। প্রচলিত আছে, বারমুন্ডা ট্রায়াঙ্গলে লুকিয়ে আছে শয়তানের আস্তানা। কেউ কেউ দাবি করেন অতিপ্রাকৃতিক শক্তি বা ভিনগ্রহের কোনো প্রাণীর উপস্থিতিই এইসব অদ্ভুত এবং রহস্যময় ঘটনার জন্য দায়ী।
বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের অবস্থান নিয়ে মতভেদ রয়েছে। এর এক প্রান্ত পুয়ের্তো রিকোয়, আরেক প্রান্তে যুক্তরাষ্ট্রের বাহমা ও ফ্লোরিডার দক্ষিণাংশ, আর অন্য প্রান্তে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বারমুডা দ্বীপপুঞ্জ অবস্থিত। পঞ্চদশ শতকে ক্রিস্টোফার কলম্বাস যখন ইউরোপ থেকে আমেরিকায় যান, তখন তিনি সাগরের এই অদ্ভুত এলাকাটিকে লক্ষ করেছিলেন। মারি সেলেস্ত নামের একটি মালবাহী জাহাজ ১৮৭২ সালে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল ট্রাজেডির শিকার হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯১৮ সালে ইউএসএস সাইক্লোপস জাহাজটি ৩০৬ জন ক্রু নিয়ে বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের কাছে এসে উধাও হয়ে যায়। ১৯৪৫ সালে ইউএস নেভির ‘ফ্লাইট নাইনটিন’ নামক পাঁচটি বিমান নিখোঁজ হয়ে যায় এই এলাকায়। ২০১৬ সালের ৪ মার্চ ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক একটি আর্টিকেল প্রকাশ করে, যার তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৩০০টির মতো জাহাজ আর ৭৫টির মতো বিমান নিখোঁজ হয়েছে এই বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে।
বিজ্ঞানীদের দাবি, বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের পিছনে অতিপ্রাকৃতিক কোনো কারণ নেই। বৈরী আবহাওয়া, মানবঘটিত ভুল আর দুর্ভাগ্যের কারণেই দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে।
নাজমুল আলম