স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
এবার পদ্মা নদীতে বাঁধ দিয়ে রাস্তা বানাচ্ছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্যানেল মেয়র-২ ও আওয়ামী লীগ নেতা রজব আলী। ইজারা নেওয়া মহাল থেকে বালু পরিবহনের ট্রাক চলাচলের জন্য নগরীর তালাইমারী এলাকার পদ্মার বুকে বাঁধ দিচ্ছেন তার নিয়োজিত শ্রমিকরা। গত বছর একই কাজ করেছিলেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের আরেক নেতা। তবে তিনি এবার বালু মহাল ইজারা নিতে পারেননি।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাজশাহী মহানগরীর তালাইমারী ঘাট থেকে কিছুটা দূরেই পদ্মার বুকে বিশাল চর জেগেছে। বর্তমানে ঐ চরের দক্ষিণ পার্শ্ব দিয়ে পদ্মা নদীর মূল স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে। এবার টেন্ডারের মাধ্যামে রাজশাহীর দিয়াড়খিদিরপুর ও চরশ্যামপুর বালুমহাল ইজারা নিয়েছেন রাসিকের প্যানেল মেয়র-২ রজব আলী। তার শ্রমিকরা ঐ এলাকা থেকে নদীপথে নৌকায় করে বালু এনে চরে স্তূপ করছে। সেখান থেকে তালাইমারী বালুঘাটে সরাসরি ট্রাকে করে বালু আনার উদ্দেশ্যে ঘাট ও চরের মাঝের পদ্মা নদীতে তৈরি করা হচ্ছে রাস্তা। এ জন্য নদীর বাম তীর থেকে ইট ও কংক্রিটের বর্জ্য ফেলা শুরু করেছে শ্রমিকরা। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, গত ২৫ নভেম্বর থেকে নদীর মধ্যে রাস্তা তৈরির কাজ শুরু করা হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন গতকাল শুক্রবার সকালেও তালাইমারী ঘাটে শ্রমিকদের পদ্মা নদী ভরাট করে রাস্তা তৈরি করতে দেখা যায়। স্থানীয়রা আরো জানান, গতবছর একইভাবে পদ্মা নদী ভরাট করেছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের আরেক নেতা। এলাকাবাসী ও পরিবেশবাদীদের প্রতিবাদের মুখে গত বছর জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত তালাইমারী ঘাট দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছিলেন। ইজারাদারকে রাস্তা অপসারণ করে নিতে বাধ্যও করা হয়েছিল। কিন্তু আবারও সেই একই কাজ করছেন খোদ রাসিকের প্যানেল মেয়র-২।
পদ্মায় গোসল শেষে ফিরে যাবার সময় কয়েক নারী-পুরুষ বলেন, পদ্মার মূল স্রোত এখান থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। ঘাটের কাছে যেটুকু পানি আছে, তাতেই তারা গোসল ও কাপড়চোপড় ধোয়ার কাজ করেন। পদ্মার বুকে নতুন রাস্তা দিয়ে বালুর ট্রাক চলাচল শুরু হলে তারা আর গোসলও করতে পারবেন না। কারণ ঐ রাস্তা দিয়ে জনসমাগম হবে। সবসময় ট্রাক চলাচল করবে। বাঁধের (রাস্তা) পূর্ব দিক পানি শূন্য হয়ে পড়বে এবং পশ্চিম দিক পানি থাকলেও ময়লা আবর্জনা জমবে।
ইজারাদার ও রাসিকের প্যানেল মেয়র-২ ও ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রজব আলী অবশ্য বলেন, ‘ইজারা নেওয়া ঘাটের মাধ্যমে বালু তোলার জন্যই একটা রাস্তা তৈরি করছি। সেখানে এখন নদী নেই। জমির আরএস খতিয়ানে রাস্তা হিসেবেই উল্লেখ রয়েছে। কোনো অনিয়ম করছি না।’ তবে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) রাজশাহীর সমন্বয়কারী তন্ময় সান্যাল সাংবাদিকদের বলেন, পানির মূল প্রবাহ থাকুক আর না-ই থাকুক, আইন অনুযায়ী নদীর জায়গায় কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা যাবে না। এটা আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। এ আইনে জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও নদী রক্ষা কমিশনের জেলা ও বিভাগীয় কমিটি ব্যবস্থা নিতে পারেন। জেলা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিটির সভাপতি বিভাগীয় কমিশনার।
রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নজরুল ইসলাম বলেন, এবার শুধু দিয়াড়খিদিরপুর ও চরশ্যামপুর বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়েছে। তালাইমারী ঘাট দিয়ে বালু তোলার কথা নয়। এই বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।