রাজশাহী শাহ্ মখদুম মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে এই ঘটনা ঘটে। মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ বহিরাগত ক্যাডার এনে এই হামলার ঘটনা ঘটায় বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত কয়েকজনের হাত ভেঙেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, শুক্রবার বিকেলে তারা কলেজ হোস্টেল থেকে তাদের শীতের কাপড় নিতে যান। প্রথমে তাদের ক্যাম্পাসে হোস্টেলে যেতে বাধা দেওয়া হয়। পরে তাদের হোস্টেলে ঢুকতে অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা হোস্টেলে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের ওপর কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী ও বহিরাগতরা অতর্কিতে হামলা চালায়। হামলাকারী বহিরাগত ক্যাডারদের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল।
জানা যায়, সম্প্রতি রাজশাহী শাহ্ মখদুম মেডিক্যাল কলেজটি বন্ধ ঘোষণা এবং শিক্ষার্থীদের মাইগ্রেশন করে অন্যান্য বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে এটি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ছিল কলেজ কর্তৃপক্ষ। গতকালের হামলার ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে মেডিক্যাল কলেজের এমডি মনিরুজ্জামান স্বাধীনের বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) অনুমোদন না থাকলেও শাহ্ মখদুম মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ কয়েক দফায় ২২৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করে। গত ২ নভেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব বদরুন নাহার সাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। এর আগে গত ২৫ অক্টোবর স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় এই সিদ্ধান্ত কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।