অক্সফোর্ডের টিকার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ, হবে আরো ট্রায়াল

অক্সফোর্ডের করোনা ভাইরাসের টিকার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এজন্য আরো ট্রায়াল দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে এর অন্যতম অংশীদার অ্যাস্ট্রাজেনেকো। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছ থেকে এর অনুমোদন পেতে দেরি হবে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। এদিকে রাশিয়ার স্পুটনিক-ভি নামের টিকার উত্পাদনও করবে ভারত। অন্যদিকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তিনি করোনা ভাইরাসের টিকা গ্রহণ করবেন না। খবর রয়টার্স ও আলজাজিরার

স্বেচ্ছাসেবকদের একাংশকে একটি ডোজ দেওয়ার পর আরেকটি পূর্ণাঙ্গ ডোজ না দিয়ে ভুল করে অর্ধেক ডোজ দেওয়ার পর টিকার সাফল্যের হার ৯০ শতাংশ পাওয়ায় টিকাটির সত্যিকারের সক্ষমতা ও কার্যকারিতা নিয়ে অনেক বিজ্ঞানী-ই প্রশ্ন তুলেছেন। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের এক্সপেরিমেন্টাল মেডিসিনের অধ্যাপক পিটার ওপেনশ বলেন, আমাদের ট্রায়ালের সম্পূর্ণ তথ্যের জন্য অপেক্ষা করতে হবে এবং দেখতে হবে নিয়ন্ত্রক  কর্তৃপক্ষগুলো এই ফলকে কীভাবে দেখে।

ব্রিটিশ কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকোর প্রধান নির্বাহী প্যাসকল সোরিয়তের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ নিউজ জানায়, আরো পরীক্ষা করা হবে এবং তারপর ফল কী আসে তা দেখা হবে। এর চেয়ে আরো কীভাবে ভালো করা যায়, সেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি জানান, আরো একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা হবে। এজন্য আমাদের কিছু স্বেচ্ছাসেবীর প্রয়োজন হবে। সোমবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক ওষুধ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকা এক ঘোষণায় অক্সফোর্ডের সঙ্গে যৌথভাবে বানানো তাদের পরীক্ষামূলক কোভিড-১৯ টিকার ব্রাজিল ও যুক্তরাজ্যে করা চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়ালের ফলে গড়ে ৭০ ভাগ সফলতার কথা জানিয়েছিল।

স্পুটনিকও উত্পাদন করবে ভারত

ভারতের ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি হেটেরো প্রতি বছর রাশিয়ার তৈরি কোভিড-১৯ ‘স্পুটনিক ভি’ টিকার ১০ কোটিরও বেশি ডোজ উত্পাদন করবে। রাশিয়ান ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (আরডিআইএফ) এর সঙ্গে চুক্তির আওতায় হেটেরো ২০২১ সালের শুরুতে এই টিকা উত্পাদন শুরু করবে। স্পুটনিক-ভির টুইটার অ্যাকাউন্টে এক যৌথ বিবৃতিতে গতকাল শুক্রবার এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, জনবহুল দেশ ভারতে এখনো করোনা ভাইরাসের এই রুশ টিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে। এদিকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো নিজে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন। তার দেশে এই রোগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে। তার পরও তিনি করোনা ভাইরাসের টিকা নেবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। কোভিড-১৯ মহামারির ভয়াবহ নিয়ে শুরু থেকেই সন্দেহ প্রকাশ করে এ রোগ নিয়ে তুচ্ছতা?চ্ছিল্য করেছেন বোলসোনারো। এখন তিনি টিকা প্রকল্প নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন।