গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
পাউবোর খনন কাজের দরুন এলজিইডির পাকা সড়ক বৈরান নদীর পেটে যাচ্ছে। এ দুই সংস্থার কাজের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় রাষ্ট্রীয় অর্থের যেমন অপচয় ঘটছে, তেমনি সরাসরি যানচলাচল বন্ধ থাকায় জনগণের ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। এমন অভিযোগ করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় টাঙ্গাইল পাউবো উত্তর টাঙ্গাইলের বৈরান নদী খনন করছে। প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে তিন ফেজে ধনবাড়ী উপজেলার মুশুদ্দী থেকে গোপালপুর উপজেলার হাটবৈরান পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার খনন শেষ করে গত জুনে। চলতি অর্থবছরে ভাটিতে আরো ১০ কিলোমিটার খনন শুরু হচ্ছে। গত ২৬ আগস্ট পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব আজাদুর রহমান মল্লিক নদীর দুই পাড়ে বাঁধ-কাম ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ঐ দিন পাউবো এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মিডিয়াকে জানায়, নাব্য পুনরুদ্ধার, পাড় দখলমুক্তকরণ এবং নদীদূষণ বন্ধের জন্য বৈরান খনন হচ্ছে। উভয় পাড়ে জুঁতসই বাঁধ থাকায় নদীভাঙনের সমস্যা দেখা দেবে না। বন্দহাদিরা গ্রামের ব্যবসায়ী আজাহার আলী অভিযোগ করেছেন, পাউবোর ঠিকাদার গোয়ালবাড়ী ঘাট ব্রিজের উত্তরে এক প্রভাবশালীর জবরদখল করা জমি রক্ষার জন্য পূর্ব দিকে ধনুকের মতো বাঁকিয়ে খনন সম্পন্ন করেন। হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মোজাম্মেল হোসেন ওই অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফিল্ড অফিসার এবং ঠিকাদারের প্রতিনিধিকে বলেও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহের চ্যানেলে খনন করানো যায়নি। ফলে বর্ষাকালে নদীর স্রোত এখানে বাঁক খেয়ে ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি করে। এতে নদীতীর ও এলজিইডির পাকা রাস্তায় ভাঙন দেখা দেয়। ১ কিলোমিটার পাকা রাস্তা ইতিমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। নগদাশিমলা বাজার থেকে হাদিরা হয়ে ধনবাড়ী উপজেলা সদরে সরাসরি যানচলাচল বন্ধ দুই মাস ধরে। মানুষের এখন নিদারুণ ভোগান্তি হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে বন্দহাদিরা গ্রামের অনেক বাড়িঘর আগামী বর্ষায় নদীগর্ভে যাবে। গোপালপুর উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং হাদিরা গ্রামের বাসিন্দা মো, গোলাম ফারুখ জানান, অপরিকল্পিত খননে সড়কের অংশবিশেষ নদীগর্ভে চলে গেছে। এতে এলাকাবাসীর নিদারুণ ভোগান্তি হচ্ছে। হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল কাদের তালুকদার জানান, নদীভাঙন রোধের কাজ কে করবে তা নিয়ে দুই সরকারি সংস্থার মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। এলজিইডির প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ জানান, খননকাজে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদারের খামখেয়ালির দরুন এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে এলজিইডি নগদাশিমলা-হাদিরাবাজার রাস্তা সংস্কারে হাত দিয়েছে। কিন্তু বন্দহাদিরা এলাকায় নদীভাঙনের দরুন সড়ক সংস্কারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। তিনি নদীভাঙন রোধের দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বহন করার কথা জানান। এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, ঝড় গেলে আম পাওয়া যায় না। নদীখনন এনলাইনমেন অনুযায়ী না হয়ে থাকলে এলজিইডি তাত্ক্ষণিকভাবে তাদের জানাতে পারত। কিন্তু তারা সেটা জানায়নি। এখন এলজিইডিকেই রিটেইনিং ওয়াল করে নদীর ঐ স্থানের ভাঙন রোধ করতে হবে।