বিমল সাহা, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
পশ্চিমের জেলা ঝিনাইদহ, যশোর ও চুয়াডাঙ্গায় উত্পাদিত পাবদা মাছ ভারতে রপ্তানি হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য এলাকায় উত্পাদিত পাবদাও রপ্তানি হচ্ছে। এই মাছ চাষে ভালো লাভ হওয়ায় উত্পাদনও প্রতি বছর বাড়ছে। অর্জিত হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা।
২০১৪ সালে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পান্তাপাড়া গ্রামের মো. অলিউজ্জামান প্রথম ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলায় পাবদা মাছের চাষ শুরু করেন। প্রথম বছরে সাড়ে তিন বিঘায় চাষ করেন, ভালো লাভ পান। তখন উত্পাদিত পাবদা স্থানীয় বাজারে বিক্রি হতো। ২০১৭ সাল থেকে ভারতে পাবদা মাছ রপ্তানি শুরু করেন মাছ ব্যবসায়ীরা। রপ্তানিকারক বা তাদের এজেন্টরা খামারে এসে মাছ কিনে বরফ দিয়ে প্যাকিং করে ট্রাকে করে বেনাপোল বন্দর দিয়ে রপ্তানি করে থাকেন। তারপর থেকে পাবদা মাছের চাষ বাড়তে থাকে। অলিউজ্জামান জানান, এ বছর তিনি ১২ বিঘা জলকর ভূমিতে পাবদা চাষ করেছেন। এতে তার ২৪ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তিনি আশা করছেন ৩৫ লাখ টাকা বিক্রি হবে। আগে দাম বেশি ছিল। এ বছর দাম কমে গেছে। ২৪০ থেকে ২৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বিঘাপ্রতি দেড় টন পাবদা উত্পাদন হয়ে থাকে। একই উপজেলার বাগানমাঠ গ্রামের মো. মসলেম পাটোয়ারী কয়েক বছর ধরে পাবদার চাষ করছেন। এবার তিন বিঘায় চাষ করেছেন। ২৫০ মণ মাছ প্রতি মণ ১০ হাজার টাকা দরে বিক্রি করে ২৫ লাখ টাকা পেয়েছেন। চাষে তার ২০ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে।
হরিণাকুণ্ডু উপজেলার মান্দারবাড়িয়া গ্রামের বিপ্লব জাহান জানান, মাছের খামারে ৪০ বিঘায় পাবদা মাছের চাষ করা হয়েছে। তাদের খামারে উত্পাদিত মাছ রপ্তানিকারকেরা এসে কিনে নিয়ে যান। মহেশপুর উপজেলা মত্স্য অফিসার আলমগীর হোসেন বলেন, এ উপজেলা মাছ চাষের জন্য বেশি উপযোগী। বিল-বাঁওড়ে ছড়িয়ে আছে। এসব বিল-বাঁওড় সংস্কার করে কার্পজাতীয় মাছের চাষ করা হতো। এখন পাবদা মাছের চাষ করা হচ্ছে। প্রতি বছর পাবদা মাছের চাষ বাড়ছে। তিনি আরো বলেন, চাষিদের পাবদা মাছ চাষের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োগ করায় উত্পাদন বেড়েছে।
খুলনার পাবদা মাছ রপ্তানিকারক গোপাল বিশ্বাস জানান, তিনি তিন বছর ধরে ভারতে পাবদা মাছ রপ্তানি করছেন। ভারতে পাবদার চাহিদা বাড়ছে। প্রতি কেজি আড়াই ডলার মূল্যে রপ্তানি করছেন। ঝিনাইদহ, যশোর ও অন্যান্য জেলা থেকে মাছ কিনে ভারতে রপ্তানি করে আসছেন। ভারতে পাবদা মাছের ভালো চাহিদা আছে।
বেনাপোল বন্দরের ফিস কোয়ারেন্টাইন পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান জানান, ভারতে পাবদা মাছ রপ্তানির পরিমাণ বাড়ছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পাবদা মাছ রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩০০ টন। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২ হাজার ১০৮ টন রপ্তানি হয়েছে। চলতি অর্থবছরে আরো বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন। যশোর জেলা মত্স্য অফিসার মো. আনিসুর রহমান জানান, গত বছর ৯৫ হেক্টর জলায়তনে পাবদার চাষ হয়। উত্পাদন হয়েছিল ৩৬০ মণ। উত্পাদিত পাবদার প্রায় সবটাই ভারতে রপ্তানি হয়।
ঝিনাইদহ জেলা মত্স্য অফিসার মো. আলফাজ উদ্দিন শেখ জানান, গত বছর মহেশপুর উপজেলায় ৫৩ হেক্টরে পাবদার চাষ হয়েছিল। উত্পাদন হয়েছিল ৪০০ টন, কোটচাঁদপুর উপজেলায় আট হেক্টরে চাষ হয়। উত্পাদনের পরিমাণ ছিল ১৫ টন। কালীগঞ্জ উপজেলায় ১২ হেক্টরে চাষ হয়েছিল। উত্পাদনের পরিমাণ ছিল ১০০ টন। ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় চাষ হয়েছিল ২৮ হেক্টরে। উত্পাদনের পরিমাণ ছিল ২০৪ টন। হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় চাষ হয়েছিল ২৪ হেক্টরে। উত্পাদনের পরিমাণ ছিল ১৯২ টন। চলতি বছরে পাবদার চাষ আরো বেড়েছে। এতে উত্পাদনের পরিমাণও বাড়বে। তিনি জানান, এই প্রজাতির নাম মধু পাবদা। এই জাতটির মান ও স্বাদ ভালো। তবে দাম পড়ে যাওয়ায় খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এতে ভবিষ্যতে পাবদা চাষের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।