১৮০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশনা কার্যকরের তাগিদ

গোলটেবিল আলোচনাসভা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

১৮০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশনা কার্যকর করার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিজ্ঞজন। গতকাল ডেইলি স্টার ভবনের আজিমুর রহমান কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক গোলটেবিল সভায় এ তাগিদ দেন তারা। গোলটেবিল আলোচনাসভার আয়োজন করে ‘আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট’। এতে সহযোগিতা করে ক্রিয়েটিং স্পেসেস টু টেক অ্যাকশন অন ভায়োলেন্স এগেইন্সট উইমেন অ্যান্ড গার্লস’ প্রকল্পের আওতায় গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা ও অক্সফাম। আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ, প্রশিক্ষণ, বিচার প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক মো. গোলাম কিবরিয়া, বাংলাদেশ পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস অ্যাসিস্ট্যান্ট ইনস্পেকটর জেনারেল মো. সোহেল রানা এবং অক্সফাম বাংলাদেশ জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড সোশ্যাল ইনক্লুশন প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর মাহফুজা আক্তার মালা।

প্যানেল আলোচক ছিলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল ফারহানা আফরোজ এবং জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার (সিনিয়র সহকারী জজ) সহকারী পরিচালক মো. আখতারুজ্জামান। সভাপতিত্ব করেন আমরাই পারি জাতীয় কমিটির সদস্য রোকেয়া কবীর এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির নির্বাহী সমন্বয়কারী জিনাত আরা হক। আলোচনায় বলা হয়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এ ধারা ২০(৩) এ বলা আছে—বিচারের জন্য মামলার প্রাপ্তির তারিখ হতে ১৮০ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল কার্য শেষ করতে হবে। কিন্তু এখন অবধি বহু মামলার ক্ষেত্রে এই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। এর মধ্যে দিনাজপুরের পাঁচ বছরের শিশুধর্ষণ মামলা অন্যতম। চার বছর ধরে এই মামলাটি সাক্ষ্য গ্রহণ অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে গত অক্টোবর মাসে বাগেরহাটের এক শিশুধর্ষণের মামলায় মাত্র সাত কার্য দিবসে রায় দেওয়ার নজিরও সৃষ্টি হয়েছে। এই উদাহরণের ফলে বোঝা যাচ্ছে, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা ১৮০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করা সম্ভব।

ড. মিজানুর রহমান অপরাধীর বিচার করার পাশাপাশি নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর মানসিক, আর্থিক, সামাজিক পুনর্বাসনের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। মো. আখতারুজ্জামান জানান, এই মামলার সঙ্গে জড়িত প্রতি ক্ষেত্রে সমন্বয় ছিল বলে এই মামলার কার্যক্রম এত দ্রুততর করা সম্ভব হয়েছে।

মো. সোহেল রানা জানান, প্রতিটি থানায় নারী শিশু প্রতিবন্ধীদের জন্য স্পেশাল ডেস্ক রয়েছে এবং প্রায় ৬৯১২টি ফেসবুক পেজ থেকে নিয়মিত নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। বহু থানায়ই দ্রুত তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হচ্ছে। তবে সময়মতো সাক্ষী হাজির না করা কিংবা পরিবার কর্তৃক মেডিক্যাল টেস্ট করাতে অসম্মতি পুলিশের দ্রুত কাজকে বিঘ্ন ঘটায়। গোলাম কিবরিয়া নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা ১৮০ দিনের মধ্যে সম্পন্নের ক্ষেত্রে সাক্ষীদের সময়মতো হাজির না হওয়ার পেছনে সাক্ষীর অর্থনৈতিক অবস্থাকে অন্যতম কারণ বলে মনে করেন। তিনি আশা করেন, রাষ্ট্র যদি সাক্ষীর যাতায়াতের খরচ বহন করে সেক্ষেত্রে অনেক সাক্ষীই সঠিক সময়ে হাজির থাকবেন। তিনি আরো বলেন যে, ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা অনুযায়ী অতিরিক্ত মামলার চাপ থাকায় ১৮০ দিনের সময়সীমা মেনে চলা বাস্তবিকভাবে সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং এই অনুযায়ী বাজেট ব্যবস্থাপনার প্রতি তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।