চার চিকিত্সএকর বিরূএ্র্ল হতঞ্ঝা মামলা

একটি কিডনি অপসারণের কথা বলে দুই কিডনি অপসারণের ঘটনায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) চার চিকিত্সকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। শুক্রবার শাহবাগ থানায় এ মামলাটি করেন মৃত রোগী রওশন আরার ছেলে চলচ্চিত্র নির্মাতা মো. রফিক সিকদার। এই চার চিকিত্সক হলেন—বিএসএমএমইউর ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল (৫৫), একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ফারুক হোসেন (৪৮), চিকিত্সক মো. মোস্তফা কামাল (৪৬) ও চিকিত্সক আল মামুন (৩৩)। এছাড়া অজ্ঞাত পরিচয় আরো তিন-চার জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ঐ নারীর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর দুই বছর পর ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেয়ে নিহতের ছেলে রফিক সিকদার শাহবাগ থানায় মামলা করেন। নিহত রওশন আরার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা কারণ উল্লেখ করেন, সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে রওশন আরার মৃত্যু হয়েছে এবং তার দুইটি কিডনিই সার্জিক্যালি অপসারণ করা হয়েছে।

এদিকে ২০১৮ সালের পহেলা নভেম্বর রফিক সিকদার শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়ারি করেছিলেন। এরপর শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) চম্পক মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেন।

সাধারণ ডায়ারিতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালের ২৭ জুন তার মাকে ঢাকার মিরপুর বিআইএইচএস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানের চিকিত্সক ইউসুফ আলী পরীক্ষানিরীক্ষা করে জানান, তার মায়ের ডান কিডনিটি স্বাভাবিক এবং বাম কিডনিটি ‘এফেক্টেড’ অবস্থায় আছে। এরপর রওশন আরাকে ২০১৮ সালের ১ জুলাই উন্নত চিকিত্সার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) পাঠানো হয়। ঐ দিনই অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলালের তত্ত্বাবধানে রওশন আরাকে হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগে ভর্তি করা হয়। ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই চিকিত্সা শেষে হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জ করার নির্দেশ দেন তিনি। ১২ আগস্ট অধ্যাপক হাবিবুর রহমানের পরামর্শ অনুযায়ী বাংলাদেশ অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনের পরীক্ষার রিপোর্ট থেকে জানা যায়, রওশন আরার ডান কিডনিটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। তার দুটো কিডনি পৃথক অবস্থায় আছে।

পরে ২০১৮ সালের ২৭ আগস্ট বিএসএমএমইউ থেকে ডা. সৈয়দ সুলতান ফোন করে জানান, রওশন আরার বাম পাশের অকেজো কিডনি অপারেশন করার জন্য আসতে হবে। ঐ বছরের ২৮ আগস্ট অধ্যাপক হাবিবুর রহমানের পরামর্শে রওশন আরার বাম কিডনি অপারেশনের জন্য তাকে ভর্তি করে বিভিন্ন টেস্ট করানো হয়; কিন্তু দুইটি পরীক্ষায় জানা যায়, তার কিডনি স্বাভাবিক রয়েছে।

২০১৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর চিকিত্সক হাবিবুর রহমান দুলাল রওশন আরার বাম কিডনিটি অপসারণ করতে বলেন। ঐ দিন দুপুরে হাসপাতালের ১০ তলার ইউরোলজি বিভাগের অপারেশন থিয়েটারে অধ্যাপক হাবিবুর রহমান দুলাল, সহকারী অধ্যাপক ডা. ফারুক হোসেন, ডা. মোস্তফা কামাল ও ডা. আল মামুন বাম কিডনিটি অপসারণের জন্য অপারেশন শুরু করেন। প্রায় তিন ঘণ্টা অপারেশনের পর একটি কিডনি স্বজনদের হাতে দেওয়া হয়। তবে এরপরই রওশন আরার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। রাতেই তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নিতে বলা হয়। হাসপাতালে আইসিইউ খালি না থাকায় ডিউটি ডাক্তারের পরামর্শে রোগীকে মগবাজারে ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। ৬ সেপ্টেম্বর ঐ হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের প্রফেসর ডা. ফখরুল ইসলাম পরীক্ষা করে প্রথম জানান, রওশন আরার দুইটি কিডনির একটিও নেই।