একুশ শতকের উত্ত্যক্তকরণ!

যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উত্ত্যক্তকারীরা স্মার্ট হয়ে গেছে। আগে শুনতাম রাস্তাঘাটে বখাটেরা মেয়েদের উত্ত্যক্ত করছে। কিন্তু বর্তমানে ঘটছে তার উলটোটা। রাস্তাঘাটে উত্ত্যক্ত করতে দেখলে লোকে কী বলবে! সেই আত্মসম্মানের ভয়ে কেউ-বা অভিনব উপায়ে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে চলেছে। অনেকটা দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মতো। যার প্রধাম মাধ্যম ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার। বর্তমানে অনলাইনে উত্ত্যক্তের ঘটনা অহরহ ঘটছে। করোনার কারণে সব গৃহবন্দি হওয়ায় অনলাইনে উত্ত্যক্তকরণ বাড়ছে। আর এ ধরনের উত্ত্যক্তের শিকার যারা তাদের সিংহ ভাগই স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

অনলাইনে কিংবা অফলাইনে হোক, মেয়েদের উত্ত্যক্তকরণ কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। কেউ হয়তো প্রকাশ করছে। তবে অধিকাংশ মেয়েই আত্মসম্মান, প্রাণনাশের ভয়ে প্রকাশ করছে না। উত্ত্যক্তকরণের কারণে এ দেশে নারীদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করা ছাড়াও আত্মহত্যারও নজির রয়েছে। উত্ত্যক্তকারণ একধরনের সামাজিক অবক্ষয়। কেউ যদি কোনো স্থানে উত্ত্যক্তকরণের শিকার হন, তাহলে আইনের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ আছে।

দণ্ডবিধির ২৯৪ ধারায় উত্ত্যক্তকারীর শাস্তি বর্ণিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, উত্ত্যক্তকারী তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে। দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারায় এ বিষয়ে স্পষ্ট বিধান আছে। এ ধারায় দায়ী ব্যক্তির এক বছর পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদের সাজা বা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। এর বাইরে অনলাইনে উত্ত্যক্তকরণের জন্য রয়েছে সাইবার নিরাপত্তা আইন। অনলাইনে উত্ত্যক্তকরণের ঘটনা বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইন, ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৩) অনুযায়ী সাইবার অপরাধ বলে গণ্য। এ আইনের ৫৭ ধারা অনুযায়ী, এই অপরাধে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড ও সর্বনিম্ন সাত বছরের কারাদণ্ড ও ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

আমার মা-বোন আজ ঘরের বাইরে নিরাপদ নয়। ঘরের চৌকাঠ পেরোলেই বখাটেদের বাজে ইঙ্গিত, কুকথার শিকার হতে হয় প্রতিনিয়ত। বখাটেদের অধিকাংশই কিশোর-যুবক, মাদকাসক্ত, লেখাপড়া থেকে ঝরে পড়া—এ শ্রেণির। এর শেষ কোথায়? আজ উত্ত্যক্ত করছে, কাল ধর্ষণ চেষ্টা বা ধর্ষণ করবে না তারই বা গ্যারান্টি কী? উত্ত্যক্তকারীরা সমাজের কীট, আগাছা। খেতে কীট, আগাছা নিধনে যেমন কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়; তেমনি সমাজের কীট নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ সময়ের দাবি।

কীট কিংবা আগাছা যত দ্রুত সম্ভব নিধন করা উচিত। এসব আগাছা নির্মূলে চাই আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ। এছাড়া সচ্চরিত্রের আড়ালে লুকিয়ে আছে অনেক অসচ্চরিত্রের মানুষ। উত্ত্যক্তকারীদের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক রাজনৈতিক নেতারা। উত্ত্যক্তকারীদের প্রতিবাদ করতে গেলে নেতাদের ছেলে, ভাই বা নিকটাত্মীয়রা নেতাদের পরিচয়ে ভয় দেখিয়ে থাকে। শুধু ভয় নয়, প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দেয়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবক্ষয়ও উত্ত্যক্তকরণের জন্য দায়ী।

n লেখক :শিক্ষার্থী, ল’ অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া