যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রতত্ত্ব কাজ করে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরাজয়ে এই ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন বিশ্লেষকেরা। এই দুজনের পরাজয় যেন একই সূত্রে গাঁথা। কিন্তু এই ষড়যন্ত্রের পেছনে কারা কাজ করে, সে বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায় না।
যুক্তরাষ্ট্রের সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইলেক্টোরাল কলেজ ও পপুলার ভোট দুটিতেই হেরেছেন। ট্রাম্প নানা ধরনের আইনি জটিলতা তৈরি করার চেষ্টা করলেও বাইডেন আগামী ২০ ডিসেম্বর হোয়াইট হাউজে প্রবেশের জন্য প্রস্তুত। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে যে আলোচনা সামনে এসেছে, তা হলো মহামারি করোনা ভাইরাস। বিশ্লেষকেরা বলছেন, করোনার কারণে ট্রাম্প কিছুটা বেকায়দায় ছিলেন। প্রথম দিক থেকে এ ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প প্রশাসনের উদাসীনতা যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পবিরোধী একটি অবস্থান তৈরি করে। কিন্তু ঘটনা এখানেই শেষ নয়। নির্বাচনের পরপরই ফাইজার-বায়োটেক তাদের উত্পাদিত টিকার সফলতার যে ঘোষণাটি দেয়, তা শুনে ট্রাম্প আর স্থির থাকতে পারেননি। তিনি বলেই ফেললেন, ‘এটি একটি ষড়যন্ত্র। যদি টিকা সফলতার খবর ফাইজার ভোটের আগে প্রচার করত, তাহলে ফলাফল আমার পক্ষেই আসত।’ বিশ্লেষকেরাও একই কথা বলছেন। তাদের মতে, নির্বাচনের মাত্র পাঁচ দিন পরে ফাইজার ঘোষণাটি দিয়েছে। নির্বাচনের আগে করোনা নিয়ে ট্রাম্পের তাচ্ছিল্য যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে বিরক্তির উদ্রেক ঘটিয়েছিল। অবশ্য নির্বাচনি প্রচারের সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্র আগামী চার বছরেও করোনার টিকার মুখ দেখবে না। কিন্তু নির্বাচনের পরপর টিকা সফল হওয়ার ঘোষণায় ট্রাম্পকে কেবল আফসোস করতে হয়েছে। ট্রাম্পের মতো একই আফসোস ছিল আরেক সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের। বিশ্লেষকদের মতে, মাত্র একটি ঘটনায় কার্টার ১৯৮০ সালের নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন। সেবারের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে লড়ছিলেন আগেরবারের নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট কার্টার ও রিপাবলিকান ডোনাল্ড রিগ্যান। নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়ায় তেহরানে জিম্মি হয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ৫২ জন কূটনীতিকের বিষয়টি। ১৯৭৯ সালে তেহরানের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস থেকে তাদের তুলে নিয়ে জিম্মি করা হয়। দীর্ঘ সময় নানা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং সামরিক শক্তি প্রয়োগ করেও তাদের মুক্ত করতে পারেনি কার্টার প্রশাসন। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে কার্টার জিম্মিদের মুক্ত করার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালান। কিন্তু তিনি ব্যর্থ হন। ইরানিয়ান প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী রাজাই ঘোষণা করেন যে, কার্টার প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হবে না। রিপাবলিকানরা তাদের প্রচারণায় এ বিষয়টির ওপর জোর দিয়ে বলেন, ডেমোক্র্যাটদের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দুর্বল হয়েছে। ফল যা হওয়ার তাই হয়েছে। নির্বাচনে হেরে যান কার্টার। অবশ্য পরে কংগ্রেশনাল তদন্তকারী দল যে তথ্য জানিয়েছে তা আরো ভয়াবহ। তদন্তকারী দল জানায়, নির্বাচনের আগে রিগ্যানের পক্ষ থেকে তেহরানের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করা হয়। নির্বাচনের আগে জিম্মিদের যাতে মুক্তি দেওয়া না হয়, সেটি নিশ্চিত করেন তারা। রিগ্যান যেদিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন, সেদিনই জিম্মিদের মুক্তি দেয় তেহরান। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে জব্দ করা ইরানের ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করতে হয়েছিল।