মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর ব্যবহৃত রংপুরের টাউন হল টর্চার সেলের পাশের বধ্যভূমি থেকে মানুষের হাড়গোড় ও দাঁত এর অংশ বিশেষ পাওয়া গেছে। সোমবার (৩০ নভেম্বর) সকালে ওই বধ্যভূমিতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজের জন্য শ্রমিকরা মাটি খুঁড়লে এসব হাড়গোড় বের হয়ে আসে।
এ খবর মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষজন ছুটে যান টাউন হল বধ্যভূমি চত্বরে। পরে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বধ্যভূমি এলাকা পরিদর্শন করেন।
খনন কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, মাটিতে ভরাট হওয়া কুয়ার উপরিভাগ কেবল খোঁড়া হয়েছে। পুরো কুয়া খুঁড়লে মুক্তিযুদ্ধকালীন নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যাওয়া মানুষের আরো অনেক হাড়গোড় পাওয়া যেতে পারে।
বধ্যভূমি পরিদর্শনে এসে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির রংপুর সভাপতি ডা. মফিজুল ইসলাম মান্টু বলেন, রংপুরের এক বিশাল খবর।বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মারক এই টাউন হল বধ্যভূমি। পাকিস্তান হানাদার বাহিনী টাউন হলে টর্চার সেল করেছিল। মুক্তিকামী বাঙালি, মুক্তিযোদ্ধা ও নিরিহ মানুষদের ধরে এনে টর্চার সেলে নির্যাতন ও হত্যা করেছিল। মা-বোনদের ইজ্জত লুটসহ তাদের হত্যা করে ফেলে দেয়া হয়েছিলো টাউন হলের পাশের কুয়াতে। এই ইতিহাসের কথা এতদিন আমরা সবাই বলছিলাম। হায়েনাদের হাতে মারা যাওয়া মানুষের আজ হাড়গোড় মিলেছে। আমরা মুক্তিযুদ্ধের মহান ইতিহাস সংরক্ষণ করে অমর গাথা ও স্মারক চিহ্ন জীবন্ত রাখতে চাই।’
তাছাড়াও বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড শাহাদত হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেনসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের চেতনার সংস্কৃতিকর্মী ও সংগঠকরা বধ্যভূমি পরিদর্শনে আসেন।
আরো পড়ুন: ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে স্কুল কমিটির সভাপতি গ্রেফতার
খনন কাজের সময় সেখানে উপস্থিত থাকা স্থানীয় সংবাদকর্মী রেজাউল করিম জীবন বলেন, আমার মতো তরুণ যুবকরা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি। কিন্তু ইতিহাস থেকে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর নির্মমতা, হত্যাযজ্ঞ ও তাণ্ডবের কথা শুনেছি। টাউন হল টর্চার সেলে এনে মানুষদের হত্যা করার ইতিহাস শুনেছি। কিন্তু সেই নির্মমতার শিকার হওয়া মানুষের হাড়গোড় ও দাঁতের অংশ বিশেষ স্বচক্ষে দেখতে পেলাম। ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখতে এসব হাড়গোড় সংরক্ষণ করা জরুরি বলে মনে করছি।
উল্লেখ্য, গত ১৬ নভেম্বর ওই স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়। ঐতিহাসিক টাউন হল ও আশপাশের সৌন্দর্যবর্ধন বৃদ্ধিসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বধ্যভূমিটি সংরক্ষণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করছে রংপুর জেলা প্রশাসন। বধ্যভূমিতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ আগামী বছরের জুনে শেষ হবে। এর জন্য নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ লাখ টাকা।টাউন হল বধ্যভূমিতে হায়েনাদের হাতে মারা যাওয়া মানুষের আজ হাড়গোড় মিলেছে।
ইত্তেফাক/এএএম