মেহেরপুরে ইটভাটায় অবাধে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ

মেহেরপুর প্রতিনিধি

মেহেরপুরের বিভিন্ন ইটভাটায় অবাধে কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। ফলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি হচ্ছে। জেলা ও জেলার বাইরের বনাঞ্চল থেকে গাছ সংগ্রহ করা হচ্ছে। সরকারি হিসাবে জেলায় ছোট বড় মিলিয়ে ১১৪টি ইটভাটা রয়েছে। এদের বেশির ভাগেরই অনুমোদন নেই।

সদর উপজেলার বন্দর গ্রামের ফয়সাল আহমেদ বলেন, প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে ইটভাটার মালিকরা কাঠ পোড়াচ্ছেন। ভাটার ধোঁয়া ও ধুলায় তাদের চলাচল করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। মেহেরপুর সদর উপজেলার বারাদির এসএস ব্রিকসের মালিক সেলিম হোসেন মোল্লা জানান, ভাটায় আগুন দিতে ৩০০-৪০০ মণ কাঠ লাগে। কিন্তু জিগজাগ ভাটা (হাওয়া ভাটা) তৈরি করতে ৭০ থেকে ৭৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। কাঠ পোড়ানোর ফিক্সড চিমনির ভাটা ২৫ লাখ টাকা হলেও তৈরি করা সম্ভব। যে কারণে ফিক্সড চিমনির সংখ্যা বেশি। মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, কাঠ পোড়ানোর ফলে ইটভাটার নির্গত কালো ধোঁয়ায় মানুষের হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের ক্যানসারসহ নানা রোগের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও অতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্সাইডের কারণে মাঠের ফসল ও এলাকার পরিবেশ দূষণ হয়।

সামাজিক বনায়ন নার্সারি ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র মেহেরপুরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাফর উল্লাহ বলেন, ‘আমরা ভাটা মালিকদের কাঠ পোড়াতে নিষেধ করেছি। তবে কাঠ পোড়ানোর বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরের। কিন্তু ভ্রাম্যমাণ সমিল বসিয়ে কাঠ চেরাই করলে অবশ্যই সেটা বাজেয়াপ্ত করব।’ পরিবেশ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার উপপরিচালক মোহাম্মদ আতাউর রহমান বলেন, ‘গত বছর আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছিল না, তাই তেমন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারিনি। এবার আমাদের নিজস্ব ম্যাজিস্ট্রেট আছে। কোনো ভাটাতেই কাঠ পোড়াতে দেব না। খুব শিগিগর অভিযান পরিচালনা করব।’ মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান বলেন, ভাটায় আগুন দেওয়ার জন্য কিছু কাঠ পোড়ানোর আবেদন করেছিল ভাটা মালিকরা। তবে এর থেকে অতিরিক্ত কাঠ পোড়ালে আপনাদের সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালিয়ে কাঠ পোড়ানো বন্ধ করা হবে।