ঘিওরে ফসলি জমির টপসয়েল কেটে নিচ্ছে প্রভাবশালীচক্র

প্রশাসন নীরব, অসহায় কৃষক

মো. শফি আলম, ঘিওর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা

ঘিওরে চিহ্নিত ভূমিদস্যুদের দাপটে অসহায় হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। জোরপূর্বক ফসলি জমির ওপর দিয়ে ট্রাক চালাচ্ছে তারা। তাদের ভয়ে কেউ কথা বলতে সাহস পাচ্ছে না। সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও কার্যকরী আইনের তোয়াক্কা না করেই জমির মাটি কেটে ৮/১০ ফুট গভীর গর্ত করা হচ্ছে। এতে ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে আশপাশের জমি। ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ফসলি জমির টপসয়েল।

সেসঙ্গে উপজেলার আবাদি জমিতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে পুকুর খনন। জোতদার কৃষক থেকে শুরু করে প্রান্তিক কৃষকরাও ঝুঁকছে পুকুর তৈরির দিকে। একের পর এক খনন করা পুকুরে গিলে খাচ্ছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। এতে পরিবেশ ভারসাম্য বিনষ্টের পাশাপাশি শস্য উত্পাদন হ্রাসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মচারীর সহযোগিতায় এভাবে মাটি বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। এমনকি এ বিষয়ে এলাকাবাসীর কোনো অভিযোগ আমলে নিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন। এমন অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের।

সরজমিনে দেখা যায়, সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে পুরাতন ধলেশ্বরী, ইছামতি নদী ও ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি ও পুকুর তৈরি করছেন প্রভাবশালীরা। ধলেশ্বরী নদীর ঘিওর সদর কুস্তা শশ্মনঘাট এলাকায় রাতের আঁধারে মাটি কেটে অবাধে বিক্রি করছে তার। পয়লা ইউনিয়নের বাইলজুরি পশ্চিম পাশে ধলেশ্বরী নদীতে ও পয়লা বিলে ফসলি জমি কেটে পুকুর তৈরি করছেন মাটি ব্যবসায়ী আরশেদ আলী, শরিফ, আরিফ। একই সঙ্গে তারা প্রতিদিন প্রকাশ্যে মাটি কেটে বিক্রি করছেন। বড়টিয়া ইউনিয়নের করজনা এলাকার পুলিশ সদস্য মো. খন্দকার ইদ্রিস পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ইছামতি নদী খননের জমাকৃত নদীর পাড়ের মাটি ভেকু দিয়ে কেটে তাদের জমি ভরাট করছেন। কেটে নেওয়া এসব মাটির বেশির ভাগ যাচ্ছে ভিটে বাড়ি ভরাটে। ক্ষতি হচ্ছে চলাচলের সড়ক, ফসলি জমি। এ বিষয়ে স্থানীয়রা বারবার নিষেধ করলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। প্রকাশ্যে দিনের বেলায় ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটা হলেও কার্যকর কোনো ভূমিকা পালন করছে না স্থানীয় প্রশাসন। ঘিওর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আইরিন আক্তার জানান, ‘আমরা মোবাইল কোর্ট করে এ পর্যন্ত অনেককেই জরিমানা করেছি। এ বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। দ্রুতই ভূমিদস্যু ও অবৈধ মাটি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’