হারিকেন হ্যাচারিতে হাঁসের বাচ্চা ফুটিয়ে ভাগ্য বদল

সিরাজগঞ্জের তাড়াশের প্রত্যন্ত গ্রাম মহেষ রৌহালী। একটা সময়ে এই গ্রামের অধিকাংশ মানুষ চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিনানিপাত করত। কিন্তু হারিকেন বাতির উত্তাপে হাঁসের ডিম থেকে বাচ্চা ফুটিয়ে ভাগ্য বদল হয়েছে এই গ্রামের মানুষের। তাদের সাফল্য দেখে উপজেলায় গড়ে উঠেছে দুই শতাধিক হারিকেন হ্যাচারি, যেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে হাজারো মানুষের।

দেশের বেকার ও কর্মহীনদের শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে এ ধরনের কর্মসংস্থান গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন হারিকেন বাতির হ্যাচারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত শাহ্ আলম, মকুল হোসেন, আব্দুল মান্নান ও রাশেদা খাতুনেরা। কিন্তু সম্ভাবনার পাশাপাশি শঙ্কাও রয়েছে এই ব্যবসায়। বিশেষ করে করোনা মহামারির প্রথম পর্যায়ে হাঁসের বাচ্চা বিক্রি করতে না পারায় ক্ষতির মুখে পড়েন অনেক ব্যবসায়ী। সামনে শীতকালে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়েও শঙ্কা রয়েছে তাদের মনে।

শাহ্ আলম নামে এক ব্যবসায়ী জানান, ২০০৪ সালের দিকে তিনি হারিকেন বাতির সাহায্যে প্রথমে ১ হাজার ৫০০ ডিমের বাচ্চা ফুটিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। বছর যেতে না যেতেই প্রতি মাসে গড়ে ২ লাখের মতো বাচ্চা ফোটাতে সক্ষম হন। প্রতি মাসে লাভের অঙ্ক দাঁড়ায় এক থেকে দেড় লাখ টাকার মতো। তার সাফল্য দেখে এই গ্রামেই গড়ে উঠেছে শতাধিক হারিকেন হ্যাচারি।

সরেজমিনে মহেষ রৌহালী, কাজীপুর, বিনসাড়া, কুশাবাড়ী ও বিন্যাবাড়ী গ্রামের বেশ কয়েকটি হারিকেন বাতির হ্যাচারি ঘুরে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উন্নত জাতের হাঁসের ডিম সংগ্রহ করেন ব্যবসায়ীরা। সেগুলো পানিতে পরিষ্কার করে রোদে শুকিয়ে নেন। পরে চোখের আন্দাজে যাচাই-বাছাই শেষে মাটি অথবা ইটের তৈরি পাকা ঘরের মধ্যে বাঁশের মাচার ওপর সারিবদ্ধভাবে বসিয়ে গরম কাপড় দিয়ে ঢেকে দেন। এরপর মাচার নিচ থেকে হারিকেন বাতির সাহায্যে পরিমাণমতো তাপ দেওয়া হয়। ২৫ দিন পর ডিমগুলো ফুটতে শুরু করে, তখন কাপড়ের আবরণ তুলে দেন। ২৮ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হয়। প্রতিটি এক দিন বয়সি হাঁসের বাচ্চা বিক্রি করা হয় ২৫ থেকে ৩০ টাকায়।

হাঁসের বাচ্চার ব্যবসায়ীরা আরো বলেন, দেশে চাহিদার তুলনায় হাঁসের বাচ্চার উত্পাদন খুবই সীমিত। ডিম ফুটে বাচ্চা হওয়ার আগেই বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে তাদের কাছে বাচ্চার জন্য যোগাযোগ করে লোকজন। এমনকি দেশের সীমানা পেরিয়ে তাদের হারিকেন হ্যাচারির হাঁসের বাচ্চা কুষ্টিয়া-যশোর হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও যাচ্ছে বলে জানান তারা। সরকারি সহায়তা পেলে এসব হ্যাচারির পরিধি বাড়িয়ে চাহিদানুযায়ী হাঁসের বাচ্চা উত্পাদন করা সম্ভব বলে মনে করেন এসব ব্যবসায়ী।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আখতারুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, হারিকেন বাতির হ্যাচারি ব্যবসায়ীরা যে কোনো ব্যাংক থেকে সামান্য সুদে ঋণের সুবিধা নিতে পারেন। এর বাইরে এসব খামারিকে নানাভাবে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হয়।