পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে ব্যাপকভাবে বাদ পড়েছে শহুরে নিম্ন আয়ের মানুষ

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোর ক্ষেত্রে নগরাঞ্চলের নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো ব্যাপকভাবে বাদ পড়ে যাচ্ছে। দেশের শহরাঞ্চলে বাস্তবায়নাধীন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপে উঠে এসেছে। ‘নগর আর্থসামাজিক অবস্থা নিরূপণ জরিপ ২০১৯’-এর প্রতিবেদন গতকাল প্রকাশ করেছে বিবিএস। এতে বলা হয়েছে, শহরাঞ্চলে দরিদ্র পরিবারগুলোতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উপবৃত্তি পায় এমন পরিবার পাওয়া গেছে মাত্র ৩ শতাংশ এবং বয়স্ক ভাতায় রয়েছে মাত্র ২ শতাংশ।

মূলত শহরাঞ্চলের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কার্যকরী সুবিধাভোগী নির্বাচনের পদ্ধতি প্রণয়নে সুপারিশ করতে এমন জরিপ করেছে বিবিএস। খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি ও আর্থসামাজিক বৈশিষ্ট্য নিরূপণের তথ্য সংগ্রহ করতে বাংলাদেশের প্রধান মহানগরগুলেতে নগর আর্থসামাজিক অবস্থা নিরূপণে জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, সিটি করপোরেশনের নমুনা এলাকার খানাসমূহে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ খুব বেশি। জরিপের ফলাফলে দেখা যায় ২১ শতাংশ পরিবার (খানা) বিগত মাসে তাদের পর্যাপ্ত খাবার না থাকার বিষয়ে উদ্বিগ্ন ছিল।

জরিপ কার্যক্রমের বিষয়ে জানতে চাইলে এর ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, প্রতিবেদনটি গত জুলাই মাসে সম্পন্ন করা হলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রকাশ করতে বিলম্ব হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি শুরুর আগে ৮ হতে ২৬ ডিসেম্বর সময়কালে ঢাকা-চট্টগ্রাম ছাড়াও ৮৬টি নমুনা এলাকা হতে উচ্চ, মধ্য ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এ প্রতিবেদনে দেশের প্রধান নগরীতে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক অবস্থা উঠে এসেছে।       সেই আলোকে নগর পর্যায়ে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিভিন্ন সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদেনে দেখা যায়, নগরাঞ্চলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী বয়সের ৯৩ শতাংশ শিশু এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গমনোপযোগী ৬৮ শতাংশ শিশু স্কুলে যাচ্ছে। অর্থাত্ প্রাথমিক পর্যায় থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ে বহু শিশু ঝরে পড়ছে। বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রী বিবেচনায় স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো শুধু মাছ বাদে অন্য সব খাদ্যসামগ্রী ন্যূনতম ভোগের চেয়ে কম পরিমাণে ভোগ করে থাকে। বাজেটের অর্ধেকই (৫১ শতাংশ) খাদ্যসামগ্রীর পেছনে ব্যয় করছে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো। খাদ্যসংকট মোকাবিলার জন্য স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো তুলনামূলক কম ভোগ করে। এর ফলে তাদের পুষ্টির ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বনিম্নমানের নিচে খাদ্য গ্রহণ করে এমন খানা এক-তৃতীয়াংশের বেশি পাওয়া গেছে। অর্থাত্ এই পরিবারগুলো ন্যূনতম মানদণ্ডের নিচে খাবার গ্রহণ করছে।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় পরিবারগুলো পোলট্রির মতো প্রাণিজাত খাবার বেশি পরিমাণে ভোগ করে থাকে। যার কারণে তাদের মাথাপিছু মাসিক খাদ্যভোগ ব্যয় তুলনামূলক বেশি। তা সত্ত্বেও সিটি করপোরেশন এলাকার খানায় খাদ্যতালিকার মধ্যে ভাতের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, মাথাপিছু প্রতিদিন ২৭৫ গ্রাম। জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোর ক্ষেত্রে নগরাঞ্চলের নিম্ন আয়ের খানাসমূহ ব্যাপকভাবে বাদ পড়ে যাচ্ছে।  করোনা সংকট ও জরিপে প্রাপ্ত তথ্য ব্যবহার করে সুবিধাভোগী নির্বাচনে আরো বেশি মনযোগী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।