চালের বাজারে এবার উলটো চিত্র!

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর

প্রতি বছর নতুন ধান ওঠার সঙ্গে সঙ্গে চালের দাম কমলেও ধানের জেলা দিনাজপুরে এবার চালের বাজারের চিত্র উলটো। বাজারে নতুন ধান উঠলেও এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে শুরু করেছে চালের দাম। ১৫ দিনের ব্যবধানে বাজারে চালের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ২ থেকে ৩ টাকা আর বস্তাপ্রতি বেড়েছে ১০০ টাকারও বেশি। চালবিক্রেতারা বলছেন, মিলের মালিকেরা দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় বেড়েছে চালের দাম। আর মিলের মালিকেরা বলছেন, বাজারে ধানের দাম বেশি থাকায় উত্পাদন খরচের সঙ্গে সংগতি রেখেই তাদের চাল বিক্রি করতে হচ্ছে। গতকাল রোববার দিনাজপুরের প্রধান চালের বাজার বাহাদুরবাজারে গিয়ে দেখা যায়, ১৫ দিনের ব্যবধানে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা বিআর-২৮ জাতের চাল ২ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ টাকায়, বিআর-২৯ জাতের চাল ২ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ টাকায়, মিনিকেট চাল ২ হাজার ৫৫০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৭০০ টাকায়। প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) নতুন স্বর্ণা চাল বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৩৫০ টাকায়। অর্থাত্, ১৫ দিনের ব্যবধানে বাজারে প্রকারভেদে প্রতি বস্তা চালের দাম বেড়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত।

চালবিক্রেতা লিয়াকত আলী জানান, প্রতি বছর নতুন ধান ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই বাজারে চালের দাম কমে আসে। কিন্তু এবার চিত্র উলটো। নতুন ধান বাজারে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই এবার বাড়ছে চালের দাম। মিলের মালিকদের কাছ থেকে বেশি দামে চাল কিনে এনে বাধ্য হয়েই তাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে এখনো নতুন ধানের চাল পুরোপুরি বাজারে আসতে শুরু করেনি বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে মিলের মালিকেরা বলছেন, এবার বাজারেই নতুন ধানের দাম বেশি। তাই বেশি দামে ধান কিনে চালের উত্পাদন খরচের সঙ্গে সংগতি রেখেই তাদের চালের দাম নির্ধারণ করতে হচ্ছে। ধানের দাম বেশি থাকার কারণেই চালের দাম কিছুটা বেড়েছে বলে জানান মিলের মালিকেরা। এ বিষয়ে দিনাজপুর জেলা চালকল মালিক সমিতির নেতা বিশিষ্ট শিল্পপতি সহিদুর রহমান পাটোয়ারী মোহন জানান, বাজারে ধানের দাম বেশি থাকলে চালের দামও বেশি হবে এটাই স্বাভাবিক। তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার নতুন ধান ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই ধানের দাম বেশি। তাই বেশি দামে ধান কিনে চাল বানাতে তাদের উত্পাদন খরচও বেশি পড়ছে। এ জন্যই চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে ধানের দাম বেশি থাকায় কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। কৃষকেরা লাভবান হলে ভবিষ্যতে ধানের উত্পাদনও বাড়বে বলে জানান তিনি।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার দিনাজপুরের অন্যতম বৃহত্ ধানের বাজার দিনাজপুর সদর উপজেলার গোপালগঞ্জ হাটে গিয়ে দেখা যায়, ৭৫ কেজির প্রতি বস্তা গুটি স্বর্ণা ধান বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০ থেকে ২ হাজার ৬০ টাকায়, সুমন স্বর্ণা ধান বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০ টাকায় এবং প্রতি বস্তা কটরা পারি ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৯৫০ থেকে ২ হাজার টাকায়। অর্থাত্, সরকার চলতি মৌসুমের আমন সংগ্রহ অভিযানে প্রতি কেজি ধানের দাম ২৬ টাকা নির্ধারণ করলেও বাজারেই বর্তমানে প্রতি কেজি ধান বিক্রি হচ্ছে ২৭ থেকে ২৮ টাকায়।