আগামীর ভাবনায় শিক্ষা

শিক্ষাকে মনে করা হয় একটি জাতির কাঠামো তৈরি করার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। সে জাতি তত উন্নত যে জাতির শিক্ষাব্যবস্থা যত আধুনিক ও যুগোপযোগী। যদিও একুশ শতাব্দীতে এসে বেশ কয়েকবার দেশের শিক্ষাব্যবস্থাপনা ও নীতিতে পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। সেইসঙ্গে পাঠ্যপ্রণয়নে এসেছে নিত্য নতুন পরিবর্তন। এর আগেও এক আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছিল কারিকুলাম আর পরীক্ষাব্যবস্থায়। এই শিক্ষাব্যবস্থায় দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সৃজনশীলব্যবস্থা নামে নতুন একটা শিখন প্রণালি প্রণয়ন করা হয়। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিগত মুখস্থনির্ভর শিক্ষানীতি থেকে বেরিয়ে এসে প্রায়োগিক জ্ঞান অর্জন সেইসঙ্গে যুগোপযোগী দক্ষ নাগরিক তৈরি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন এই শিক্ষানীতিও যে ততটা কার্যকরী হয়নি তা ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়।

প্রায় এক যুগ পরে দেশের শিক্ষা পাঠ্যপ্রণয়নে আবারও আমূল পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। 

নতুন এ শিক্ষাব্যবস্থায় দশম শ্রেণি পর্যন্ত সবার জন্য একই কারিকুলাম থাকছে। একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীরা নিজের পছন্দের বিভাগে পড়তে পারবে। সেইসঙ্গে কমছে পরীক্ষা এবং বইয়ের বোঝা।

আশা করি নতুন এ শিক্ষাব্যবস্থা যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রত্যেক সেক্টরের জন্য আলাদা আলাদা বিশেষায়িত শিক্ষায় শিক্ষিত যোগ্য মানবসম্পদ তৈরি করতে সক্ষম হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে যাতে সেই রকমের মানসম্পন্ন বিশেষায়িত গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে পারে তা যেন নিশ্চিত করে। ফলে শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যতা রেখে দেশের সব ধরনের চাকরির বাজারে প্রবেশ করবে বিশেষায়িত শিক্ষায় শিক্ষিত দক্ষ ও যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা।

এজন্য  সরকারি এবং বেসরকারি সব ধরনের চাকরির নিয়োগে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা যেতে পারে। যে নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য হবে চাকরির নিয়োগে বিশেষায়িত যোগ্য প্রার্থীরা চাকরি পাচ্ছে কি না—তা নিশ্চিত করা।

এই নীতিমালা কার্যকর হলে দেশ হারাবে না বিপুল পরিমাণ অর্থ। কেননা, বেসরকারি খাতের জন্য প্রতি বছর বিশেষায়িত যোগ্য কর্মীর জন্য ভারত, শ্রীলঙ্কা, চীন থেকে অনেক দক্ষকর্মী আমদানি করতে হয়, ফলে প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন অর্থ হারাতে হচ্ছে দেশকে।

অন্যদিকে দেশের গ্যাজুয়েটরা এমনকি বিশেষায়িত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যথেষ্ট দক্ষ হয়ে উঠতে পারছেন না। এছাড়াও ভাষাগত এবং ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা অর্জনের অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকায় বিশেষায়িত সেক্টরগুলোতে যথেষ্ট দক্ষতা দেখাতে পারছেন না। ফলে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় হাজার হাজার তরুণ গ্র্যাজুয়েশন, পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেও বেকার ঘুরছে আর গুনছে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিনক্ষণ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে এবং দক্ষ ও যোগ্য মানবসম্পদ তৈরি করতে নতুন শিক্ষাব্যবস্থায় আশা করি এ দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে তুলতে সক্ষম হবে। তাই আমার মতো হাজারো সচেতন নাগরিক চেয়ে আছে নতুন এক যুগোপযোগী কার্যকর শিক্ষা প্রণয়ন পদ্ধতির আশায়। যে শিক্ষাব্যবস্থা হবে না বেকার তৈরির কারখানা। যে শিক্ষাব্যবস্থা এমনই দক্ষ ও যোগ্য প্রার্থী তৈরি করবে যার ফলে প্রতিবেশী দেশ থেকে কর্মী আমদানি করা লাগবে না এবং দেশও হারাবে না হাজার কোটি টাকা। চাই এমন একটি যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা যেখানে হাজারো বেকার তরুণ গ্র্যাজুয়েশন করে চাকরির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরবে না। সিলিংয়ে ঝুলে যাবে না কোনো অঙ্কুরিত স্বপ্ন।

n লেখক :শিক্ষার্থী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক,

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়