চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি নির্মাণে নতুন নীতিমালা

কর্ণফুলী নদীর দুই তীরে জেটিসমূহের চলছে যথেচ্ছ ব্যবহার। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নির্দিষ্ট সাইজের জেটির অনুমতি নিলেও তার কয়েক গুণ বেশি পরিমাণ ব্যবহার করছে অনেকে। এতে করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। অথচ বর্তমানে কর্ণফুলী নদীর তীরে জেটির অনুমতি পাওয়া ‘সোনার হরিণ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বন্দরের বিভিন্ন ধরনের শর্ত, যাচাই-বাছাইসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের অনুমতি পেতে কয়েক বছর অতিবাহিত হওয়ারও অভিজ্ঞতা রয়েছে অনেকের। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জেটি বা ঘাটের ব্যাপারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে জেটি বা ঘাটের ভাড়া বাবদ আয় দ্বিগুণ হবে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃক কর্ণফুলী নদীর দুই তীরে ১৩০টি ছোট-বড় জেটির অনুমতি রয়েছে। এর মধ্যে বিপুলসংখ্যক জেটি বন্দর থেকে যেসব শর্তে অনুমতি গ্রহণ করেছে, তার ধারে কাছে নেই। মাত্র ৪/৫ ফুট দীর্ঘ বা রানিং ফুট দৈর্ঘ্যের জেটির অনুমতি নিলেও ২০/৩০ ফুট দৈর্ঘ্য পর্যন্ত ব্যবহার করছে। নদীর তীরে ৪/৫ ফুট দৈর্ঘ্যের অনুমতি থাকলেও তীর থেকে সিমেন্টের ঢালাই, লোহার বা কাঠ ও বাঁশের সাঁকোর মাধ্যমে নদী পর্যন্ত যাওয়ার পর ২০/৩০ ফুট প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে ছোট জাহাজ, লঞ্চ কিংবা ছোট-বড় নৌকায় মালামাল ওঠা-নামা করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে নদীতে ছোট প্ল্যাটফর্মের সম্মুখে একটি বার্জ স্থাপন করে জাহাজ বা লঞ্চ থেকে পণ্য লোড-আনলোড করতে দেখা যায়। বন্দর থেকে ৪/৫ ফুট দৈর্ঘ্যের ঘাট বা জেটির অনুমতি নিয়ে নদীতে ২০/৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের প্ল্যাটফর্ম তৈরির মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা নিচ্ছে। যার ফলে বন্দর বিরাট অঙ্কের ভাড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আবার অনেকে অপেক্ষাকৃত বড় নৌযান তার জেটিতে ভেড়ানোর জন্য নদীর অনেক ভেতরে প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের এস্টেট বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৪/৫ ফুট দৈর্ঘ্যের বা রানিং ফুটের ১৯টি জেটি রয়েছে। ৬ ফুট থেকে ১০ ফুটের মধ্যে রয়েছে ১২টি, ১১ ফুট থেকে ১৫ ফুটের মধ্যে রয়েছে ৩টি, ১৬ ফুট থেকে ২০ ফুটের মধ্যে রয়েছে আটটি, ২০ ফুটের বেশি দৈর্ঘ্যের রয়েছে ৮৮টি।

জেটির ভাড়াও বৃদ্ধি করা হয়েছে। যা আগামী বছরের প্রথম থেকে কার্যকর হবে বলে জানা যায়। পুরাতন নিয়ম অনুযায়ী ৫ ফুট পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের জেটির ক্ষেত্রে ভাড়া ছিল বছরে প্রতি ফুট ৩২৮ টাকা। ৬ ফুট থেকে ১০ ফুট জেটির ক্ষেত্রে প্রতি ফুট ৫৫৬ টাকা, ১১ ফুট থেকে ২০ ফুটের ক্ষেত্রে প্রায় ১ হাজার ৩০০ টাকা। ২১ ফুটের উপরে ৫ হাজার ২০০ টাকা।

বর্তমানে নদীর তীরে ন্যূনতম ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের রেট অনুযায়ী অর্থাত্ বর্ধিত ২ হাজার ৬০০ টাকা দরে ভাড়া প্রদান করতে হবে। অপরদিকে ২১ ফুট থেকে তার বেশি দৈর্ঘ্যের জন্য ৫ হাজার ২০০ টাকা দরে ভাড়া প্রদান করতে হবে। আগামী জানুয়ারি থেকে বর্ধিত ভাড়া কার্যকর হলে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটির ভাড়া থেকে আয় দ্বিগুণ হবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান। চট্টগ্রাম বন্দর জেটিসহ বিভিন্ন জমির ভাড়া বাবদ বছরে ৪০ কোটি টাকা আয় করে থাকে।