আজ আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস

বাজিতপুরের প্রতিবন্ধী স্কুলটির ভবিষ্যত্ কী?

বাজিতপুরের একমাত্র বিশেষায়িত প্রতিবন্ধী স্কুলটির ভবিষ্যত্ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও আজও স্কুলটি সরকারি স্বীকৃতি পায়নি, এমপিওভুক্তও হয়নি। ফলে আর্থিক সংকটে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বন্ধ হয়ে গেছে। সরকার জরুরি ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্তির ব্যবস্থা না নিলে এক সময়ে এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

জানা গেছে, বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সারা দেশে ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত ও চলমান বিশেষায়িত স্কুলগুলোর মধ্য থেকে প্রতি উপজেলায় একটি করে স্কুলকে স্বীকৃতি প্রদান, পূর্বে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত স্কুলকে এমপিওভুক্তকরণ এবং পরবর্তী পর্যায়ে শর্তসাপেক্ষে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত স্কুলগুলোকে এমপিওভুক্ত করার সিদ্ধান্ত সরকারের রয়েছে। কিন্তু এর কিছুই এখন পর্যন্ত হচ্ছে না। বাজিতপুর উপজেলার একমাত্র বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ‘মৃত্তিকা প্রতিবন্ধী শিশু পাঠশালা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র’ ২০১৫ সাল থেকে এনডিডি (ঘবঁত্ড় উবাবষড়ঢ়সবহঃধষ উরংধনরষরঃু স্নায়বিক বিকাশজনিত প্রতিবন্ধিতা) শিশুদের জন্য শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি জেলা সমাজসেবা অফিস কর্তৃক অডিট হয়ে মন্ত্রণালয়ে অনেক আগেই রিপোর্ট জমা হয়েছে। উপজেলার বাজিতপুর কিশোরগঞ্জ হাইওয়ে রোডের পাশে নিজস্ব জায়গায় প্রতিষ্ঠিত স্কুলটি এনডিডি স্কুলের জন্য সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে সাত জন শিক্ষক, এক জন সাইকোলজিস্টসহ মোট ১৬ জন স্টাফ রয়েছে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৪৯ জন। বিগত পাঁচ বছর যাবত্ শিক্ষক-কর্মকর্তা কর্মচারীরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে শ্রম দিয়ে আসছেন। এ পর্যন্ত শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা কিংবা সম্মানী বাবদ কোনো ধরনের সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পাননি। তারা মূলত অবসর সময়ে কৃষিকাজ, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও স্বল্প টাকায় প্রাইভেট পড়িয়ে কায়ক্লেশে জীবনযাপন করছেন। করোনাকালে তারা আরো বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।

জানা যায়, বাজিতপুর উপজেলায় প্রতিবন্ধীর সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৫০০; যার মধ্যে ১৮ বছরের নিচে প্রতিবন্ধী শিশুর সংখ্যা ১ হাজার ২০০ এর অধিক। এর মধ্যে স্কুলগামী শিশুর সংখ্যা প্রায় ১৫০ জন, যা মোট প্রতিবন্ধী শিশুর ২০ শতাংশ। উপজেলায় ৮০ শতাংশ প্রতিবন্ধী শিশু শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। উল্লেখ্য, বাজিতপুর উপজেলার ‘মৃত্তিকা প্রতিবন্ধী পাঠশালা’সহ কিশোরগঞ্জ জেলায় মোট আটটি প্রতিবন্ধী স্কুল রয়েছে, যার একটিও এমপিওভুক্ত হয়নি; ১০ বছর যাবত্ এগুলোর সরকারি স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তিকরণ ঝুলে আছে। সরকার অবিলম্বে প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি প্রদান ও এমপিওভুক্ত না করলে এগুলো মুখ থুবড়ে পড়বে। এ প্রসঙ্গে ‘মৃত্তিকা প্রতিবন্ধী শিশু পাঠশালা’র প্রতিষ্ঠাতা ম মাহবুবুর রহমান ভূইয়া বলেন, প্রতিবন্ধী প্রতিষ্ঠানগুলো এমনিতেই ভঙ্গুর। সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে, প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হবে।’

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বাবুল মিয়া জানান, ‘প্রতিবন্ধীদের নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা সরকার ২০০ গুণ বৃদ্ধি করেছে। প্রতিবন্ধী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপারেও নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে’। জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক কামরুজ্জামান খান বলেন, ‘খুব তাড়াতাড়ি প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি প্রদান তথা এমপিওভুক্তকরণ প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আশা করছি’।