দ্বিতীয় ধাপে দেশের ৬১টি পৌরসভায় আগামী ১৬ জানুয়ারি ভোট গ্রহণ করা হবে। গতকাল বুধবার বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এসব ভোটের তপশিল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে, মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২২ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ ডিসেম্বর। এই ৬১টি পৌরসভার মধ্যে ২৯টিতে ভোট নেওয়া হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। বাকি ৩২টিতে ভোট হবে কাগজের ব্যালটে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর এই তপশিল ঘোষণা করেন। শীতকাল হওয়ায় সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট হবে।
এর আগে প্রথম ধাপে ২৫টি পৌরসভায় ভোটের তপশিল ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রথম ধাপের ২৫টিতে ভোট গ্রহণ করা হবে ২৮ ডিসেম্বর। প্রথম ধাপে ২৫টি পৌরসভা নির্বাচনের জন্য ১ হাজার ৩৩৩ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তাদের মধ্যে মেয়র পদে ১১২, সংরক্ষিত নারী আসনে ২৮৩ এবং সাধারণ বা কাউন্সিলর পদে ৯৩৮ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। ইসির তপশিল অনুযায়ী এসব পৌরসভায় মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ছিল ১ ডিসেম্বর। আর রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের তারিখ ৩ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১০ ডিসেম্বর।
দ্বিতীয় ধাপে যে ৬১টি পৌরসভায় ভোট নেওয়া হবে, সেগুলো হলো-চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ, সিরাজগঞ্জের কাজীপুর (ইভিএম), নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ ও কেন্দুয়া (ইভিএম), কুষ্টিয়ার কুষ্টিয়া সদর, ভেড়ামারা, মিরপুর ও কুমারখালী (ইভিএম), মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, নারায়ণগঞ্জের তারাব (ইভিএম), শরীয়তপুরের শরীয়তপুর (ইভিএম), কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী, গাইবান্ধার গাইবান্ধা সদর ও সুন্দরগঞ্জ, দিনাজপুরের দিনাজপুর, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ, মাগুরার মাগুরা সদর (ইভিএম), ঢাকার সাভার (ইভিএম), দিনাজপুরের বিরামপুর ও বীরগঞ্জ (ইভিএম), নওগাঁর নজিপুর (ইভিএম), পাবনার ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর (ইভিএম), সাঁথিয়া, ঈশ্বরদী ও সুজানগর, রাজশাহীর কাকনহাট (ইভিএম), আড়ানী (ইভিএম) ও ভবানীগঞ্জ, সুনামগঞ্জের সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জের মাধবপুর ও নবীগঞ্জ, ফরিদপুরের বোয়ালমারী, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া (ইভিএম), নাটোরের নলডাঙ্গা (ইভিএম), গুরুদাসপুর ও গোপালপুর, বগুড়ার সারিয়াকান্দি (ইভিএম) ও শেরপুর, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া ও বেলকুচি, সুনামগঞ্জের ছাতক ও জগন্নাথপুর (ইভিএম), পিরোজপুরের পিরোজপুর (ইভিএম), মেহেরপুরের গাংনী (ইভিএম), ঝিনাইদহের শৈলকূপা (ইভিএম), খাগড়াছড়ি (ইভিএম), বান্দরবানের লামা, নীলফামারীর সৈয়দপুর (ইভিএম), সিরাজগঞ্জের সিরাজগঞ্জ ও রায়গঞ্জ, টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি (ইভিএম), কুমিল্লার চান্দিনা (ইভিএম), ফেনীর দাগনভূঞা (ইভিএম), কিশোরগঞ্জের কিশোরগঞ্জ ও কুলিয়ারচর (ইভিএম), নরসিংদীর মনোহরদী (ইভিএম), ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা, বগুড়ার সান্তাহার (ইভিএম), নোয়াখালীর বসুরহাট (ইভিএম) ও বাগেরহাটের মোংলাপোর্ট (ইভিএম)।
বর্তমানে দেশে ৩২৯টি পৌরসভা রয়েছে। এর মধ্যে ২৮ ডিসেম্বর পঞ্চগড় পৌরসভা, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী, রংপুরের বদরগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, রাজশাহীর পুঠিয়া ও কাটাখালী, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, পাবনার চাটমোহর, কুষ্টিয়ার খোকসা, চুয়াডাঙ্গা, খুলনার চালনা, বরগুনার বেতাগী, পটুয়াখালীর কুয়াকাটা, বরিশালের উজিরপুর ও বাকেরগঞ্জ, ময়মনসিংহের গফরগাঁও, নেত্রকোনার মদন, মানিকগঞ্জ, ঢাকার ধামরাই, গাজীপুরের শ্রীপুর, সুনামগঞ্জের দিরাই, মৌলভীবাজারের বড়লেখা, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ এবং চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।