ঢাকার কেরানীগঞ্জের কোন্ডা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিক উল্ল্যাহ চৌধুরী হত্যা মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিদের আরো সাত বছরের দণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান গতকাল বুধবার জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—গুলজার হোসেন, আশিক, শিহাব আহম্মেদ ওরফে শিবু, আহসানুল কবির ইমন, তাজুল ইসলাম তানু, জাহাঙ্গীর খাঁ ওরফে জাহাঙ্গীর ও রফিকুল ইসলাম ওরফে আমিন ওরফে টুন্ডা আমিন। দণ্ডিতদের মধ্যে জাহাঙ্গীর ও ইমনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন। রায় শেষে তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল।
রায়ে বিচারক বলেন, মামলার ভিকটিম বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিক উল্ল্যাহ এলাকার একজন নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং তার বীরত্বের স্বাক্ষর রাখেন। পরবর্তী সময়ে তিনি এলাকার বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। রায়ে বলা হয়, আতিক উল্ল্যাহ ছিলেন ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার জনপ্রিয় চেয়ারম্যান। তিনি তার কর্মকাণ্ডে সততা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছিলেন। এলাকায় তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে আসামি গুলজার হোসেন মেম্বারসহ অন্যরা পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেন। পরে তার লাশ পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। যাতে তাকে চেনা না যায়। লাশ গুমের জন্যই এটা করেছে আসামিরা। এদের এই হীন কর্মকাণ্ডের কারণে জাতি একজন দেশপ্রেমিক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হারিয়েছে। এজন্য তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়াটাই যুক্তিসঙ্গত।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১০ ডিসেম্বর নিখোঁজ হন বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিক উল্ল্যাহ চৌধুরী। পরদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের দোলেশ্বর এলাকার একটি হাসপাতালের পাশ থেকে আগুনে পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের সঙ্গে থাকা কাগজ ও এটিএম কার্ড দেখে বাবাকে শনাক্ত করেন তার ছেলে সাইদুর রহমান ফারুক চৌধুরী। ১২ ডিসেম্বর ফারুক চৌধুরী বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করা হয়। ২০১৫ সালে আট জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এরপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২১ জন সাক্ষীর ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে গতকাল এ রায় দেওয়া হয়।
রায়ে আসামি শম্পার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত। তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকলে তাকে মুক্তি দিতে কারা কর্তৃপক্ষকে আদেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর আবু আব্দুল্লাহ ভূঞা ও আসামিপক্ষে আইনজীবী আজহারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।