জাল টাকার বান্ডিলে ব্যাংকের ভুয়া সিল

নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি নিজেদের কৌশল বদলাতে শুরু করেছে জাল টাকা তৈরিকারী চক্র। এবার তারা নতুন কৌশলে বাজারজাত করছে জাল টাকা। সম্প্রতি এমন একটি চক্রের কয়েক জন সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন—সুমন মিয়া, বিপ্লব হোসেন ও  রাজিব শিকদার। তবে এরা জাল টাকা তৈরির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। তারা জাল টাকা মার্কেটিংয়ের সঙ্গে জড়িত। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২০ লাখ টাকার জাল নোট (১ হাজার টাকার নোট)। প্রতিটি বান্ডিল এমনভাবে ছিল, যা দেখে মনে হবে রাজধানীর কোনো ব্যাংক থেকে সদ্য তোলা বান্ডিল। এরই মধ্যে তারা এ পদ্ধতিতে বেশ সফলও হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা এমনই তথ্য জানিয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের সহকারী কমিশনার (ডিবিএসি) মো. বায়েজীদুর রহমান। গোয়েন্দা পুলিশের এ কর্মকর্তা অনুরোধ জানিয়েছেন, কারো কাছ থেকে টাকার বান্ডিল গ্রহণ করার আগে পরখ করে নেবেন। অভিযান সম্পর্কে বায়েজীদুর রহমান বলেন, গত ২৩ অক্টোবর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৫৮ লাখ ৭০ হাজার জাল টাকা, জাল ডলার ও জাল নোট তৈরির সরঞ্জামাদিসহ ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে অপর সহযোগীদের তথ্য পাওয়া যায়। তারই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় সুমন মিয়া, বিপ্লব হোসেন ও রাজিব শিকদারকে। এদের মধ্যে রাজিব জাল টাকা বিক্রেতা (সে নিজেই টাকার বান্ডিল করেছে, ব্যাংকের ভুয়া সিল বানিয়েছে), আর সুমন ও বিপ্লব জাল টাকার ক্রেতা। গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, প্রতি ১ লাখ টাকা মূল্যের জাল নোট তারা ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করত। তবে এ টাকা বিক্রির পর তারা (বিক্রেতারা) শোধ করত।

ডিবি এসি জানান, রাজিব শিকদার কারাবন্দি জাল টাকার অন্যতম হোতা কাজী মাসুদ পারভেজের সহযোগী। রাজিবের দেওয়া তথ্য মতে, মাসুদকে ছাড়িতে আনতে সে টাকার জোগাড় করছিল। জাল টাকা বিক্রি করতে নতুন কৌশল অবলম্বন করে সে। এজন্য বিভিন্ন ব্যাংকের সিল তৈরি করে। পাশাপাশি বালুমাটির মধ্যে রেখে জাল টাকাগুলোকে কিছুটা পুরনো বানায়। কোনো কোনো টাকায় কলম দিয়ে সংকেত রাখে (টাকার আসল নোটে অনেকে যেভাবে ১০০-৫০ লিখে রাখে)। যাতে কেউ জাল নোট ভাবতে না পরে। এরপর ব্যাংকের মতোই কাগজ লাগিয়ে পিন লাগায়। এরপর কাগজে বিভিন্ন ব্যাংকের ভুয়া সিল মারে। যাতে সহজে বোঝা যায় যে টাকার বান্ডিলটি সরাসরি ব্যাংক থেকে সদ্য তোলা হয়েছে।

জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে নিয়মিত মামলা ?হয়েছে। তিন জনকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দুই-চার দিনের মধ্যে তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।