কেমন আছ বন্ধুরা? তোমাদের পড়ালেখার চাপ বেড়ে গেছে তা-ই না? পুরো ডিসেম্বর মাস তোমরা ছুটি কাটিয়েছ। এবার তো পড়তে বসতেই হবে। জানো তো, ভালো ফলাফল করার জন্য বছরের শুরু থেকেই পড়ায় মনোযোগী হওয়া জরুরি। শুধু পড়লেই হবে না। মাঝে মাঝে মুভিও দেখতে হবে। আব্বু-আম্মু যদি মুভি দেখতে বারণ করেন, তাহলে রবীন্দ্রনাথের সেই বিখ্যাত কথাটি শুনিয়ে দেবে—‘পড়ার সময় যারা ছুটি নিতে জানে না তারা পড়ে, পড়া হজম করে না’। পড়া হজম করার জন্য চাই ছুটি। মানে বিরতি। আর বিরতিকে রঙিন করার জন্য দরকার মুভি। তোমাদের অবসরকে আরো বর্ণিল আরো আনন্দময় করবে এমন দুটি মুভি নিয়ে হাজির হয়েছি আজ—
হোম অ্যালোন
মনে কর তোমার আব্বু-আম্মু ঈদ অথবা পূজার ছুটি কাটাতে গ্রামে গেছে। আর তোমাকে রেখে গেছে একলা বাসায়। একা থাকা মানেই কষ্টে থাকা। একা থাকা মানেই ভয়ে থাকা। আর একলা বাসায় যদি চোর ঢোকে তাহলে তো কথাই নেই। ভয়ে চুপসে যাবে বড়রাও। কিন্তু হোম অ্যালোন মুভির ছোট্ট বন্ধু কেভিন মোটেও ভয় পায়নি। একাকীত্বও কাবু করেনি তাকে। ক্রিস্টমাসের ছুটি কাটাতে বাবা-মা গেছে প্যারিসে। একলা বাসায় কেভিন। সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকেছে দুই চোর। কেভিন মাথা খাটিয়ে বোকা বানাল চোর দুটোকে। অনেকটা চোরের ওপর বাটপারিও বলতে পারো তোমরা। চোর-কেভিন খেলা দেখতে দেখতে কখন যে হেসে কুটিকুটি হবে তুমি বুঝতেই পারবে না।
আমেরিকার ইতিহাসে হোম অ্যালোন সেরা কমেডি মুভিগুলোর একটি। শুধু তা-ই নয়, সাউথ আমেরিকার সেরা অর্থ আয় করা মুভিও এটি। মুভিটির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছে ম্যাকোলে কুলকিন (কেভিন)। দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য কুলকিন জিতে নেয় গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড সেরা অভিনেতা পুরস্কার। জন হিউজিসের কাহিনি ও ক্রিস কলম্বাসের পরিচালনা এবং হিউজিস এন্টারটেইনমেন্টের প্রযোজনায় ১৯৯০ সালের নভেম্বর মাসের ১৬ তারিখ মুক্তি পায় হোম অ্যালোন।
মাকড়ি
অজপাড়া-গাঁয়ের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে থাকে মাকড়ি। মানে পিশাচ। পিশাচবাড়িতে তো দূরের কথা, আশপাশেও বহুদিন পড়েনি মানুষের পায়ের চিহ্ন। বুঝতেই পারছ কত ভয়ঙ্কর মাকড়ি পিশাচ! লোকমুখে শোনা যায়, যেই একবার এ বাড়িতে প্রবেশ করেছে, দ্বিতীয়বার তাকে আর লোকালয়ে দেখা যায়নি। মানুষের বিশ্বাস, মাকড়ি পিশাচ মানুষকে বিভিন্ন প্রাণীর রূপ দিয়ে বন্দি করে রাখে।
গ্রামে থাকত দুই বোন। মুন্নি-চুন্নি। তারা ছিল টুইন। মানে জমজ। একদিন ভুল করে মুন্নি ঢুকে পড়ে পিশাচের বাড়ি। পিশাচ তাকে বন্দি করে রাখে। মুন্নিকে বানিয়ে দেয় সাদা মুরগি। মুন্নিকে খুঁজতে খুঁজতে হয়রান চুন্নি। প্রিয় বোনের খোঁজে শেষ পর্যন্ত পিশাচবাড়িতেও এসে পড়ে চুন্নি। দুরু দুরু বুকে পা ফেলে পিশাচমহলে। ডাকতে থাকে মুন্নিকে। সামনে আসে মাকড়ি। মাকড়ির পাশে মুরগিরূপী মুন্নি। চুন্নি-মাকড়ি মুখোমুখি। চুন্নি কি পারবে পিশাচের হাত থেকে বোনকে মুক্ত করতে? দেখতে থাকো শেষ পর্যন্ত।
ভিশাল ভারদেওয়াজের পরিচালনা ও প্রযোজনায় ২০০২ সালের নভেম্বর মাসের ১৬ তারিখে মুক্তি পায় মাকড়ি। মাকড়ির মূল চরিত্রে অভিনয় করেন শীতা বসু প্রসাদ (মুন্নি-চুন্নি)। তার অসাধারণ অভিনয় তাকে এনে দেয় ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড ২০০৩। আর মাকড়ি জিতে নেয় শিকাগো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের দ্বিতীয় পুরস্কার।