নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
কমলগঞ্জ উপজেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য পাহাড়ি ছড়া। ছোট ছোট এসব পাহাড়ি ছড়া ও খাল থেকে অপরিকল্পিত ও বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলন করছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। এতে এক দিকে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাস্তাঘাট, চায়ের টিলাসহ স্থানীয় পরিবেশ-প্রতিবেশ।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ডালুয়াছড়া, সুনছড়া, কামারছড়া, লাউয়াছড়া, জপলাছড়া, লঙ্গুছড়া, ধামালিছড়া ও দেওছড়াসহ বিভিন্ন ছড়ার স্থানে স্থানে বালু উত্তোলন বেড়ে গেছে। ছড়াগুলোর স্থানে স্থানে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে বালু উত্তোলন করে ট্রাক, পিকআপ ও ট্রলিযোগে বালু পরিবহন ও বিক্রি করা হচ্ছে। কামারছড়ায় চায়ের টিলাভূমি খুঁড়ে বালু তোলে বিক্রি করা হচ্ছে। কমলগঞ্জের আব্দুল হান্নান, আব্দুল মছব্বির, শ্রমিক সর্দার হরিচাষা বলেন, ছড়াগুলো থেকে বালু উত্তোলন আগের চেয়ে বেড়ে গেছে। শ্রমিক দিয়েও উত্তোলন হচ্ছে, আবার বোমা মেশিনযোগেও বালু উত্তোলন করা হয়। এই বালু স্তূপ করে ট্রাক, পিকআপে বিক্রি করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যান্ত্রিক পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনে আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইজারাভুক্ত ছড়াগুলোতে তা মানা হচ্ছে না।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) সিলেট বিভাগীয় সমম্বয়ক অ্যাড. শাহ শাহেদা আক্তার বেলার দায়েরকৃত মামলায় আদালতের রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়ন ও প্রকৃতি, পরিবেশ রক্ষায় খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরো বলেন, যে ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য বেলার পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করা হয়েছিল বাস্তবে সে ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশেকুল হক বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সংবাদ পাওয়ার পরই অভিযান করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বালুভর্তি ট্রাক আটক করে জরিমানাও আদায় করা হয়েছে। এছাড়াও ভূমি ও তহশিল অফিসের কর্মকর্তাদেরও ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং অন্য যেসব ছড়া থেকে বালু উত্তোলনের কথা বলা হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হবে।