ঘিওর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
মো. শফি আলম, ঘিওর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা
ঘড়ির কাঁটায় সময় বেলা ১১টা। হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মুনীরা ইয়াসমীনের চেম্বারের সামনে অপেক্ষমাণ পাঁচ-ছয় জন রোগীর ভিড়। বাইরে রোগী থাকলেও চেম্বারের ভেতরে নেই ডাক্তার। ডাক্তারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত রোগীরা। কোনো চিকিত্সকের পরামর্শ পায়নি দূর-দূরান্ত থেকে আগত রোগীরা। চিকিত্সকের দেখা না পেয়ে কিছু রোগী চলে গেলেও অধিকাংশই চিকিত্সকের আগমনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন সংশ্লিষ্ট চেম্বারগুলোর সামনে। একই অবস্থা হাসপাতালের প্রায় অধিকাংশ চেম্বারের। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ দাবি সাধারণ রোগীদের। আর জনবল সংকটের কারণে সাময়িকভাবে এই সমস্যা হচ্ছে বলে দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।
চিকিত্সকসহ জনবল সংকটের কারণে চিকিত্সাসেবার বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালটি ২০১৮ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখনো সেই ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে চলছে। ৫০ শয্যার জনবল তো দূরের কথা, ৩১ শয্যার জনবল কাঠামোর সিংহভাগ পদই এখানে শূন্য রয়েছে! আবাসিক মেডিক্যাল অফিসারের বিপরীতে মেডিক্যাল অফিসার দিয়ে কাজ চলছে, সিনিয়র স্টাফ নার্স-১১ জনের মধ্যে আছেন ৭ জন, স্বাস্থ্য সহকারী অ্যানেসথেসিস্ট, শিশু বিশেষজ্ঞ, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, প্যাথলজিস্ট, ডেন্টাল সার্জনসহ গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে মাত্র দুই জন সেবিকা কর্মরত। ৩১ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ জন চিকিত্সক থাকার কথা। আছেন মাত্র চার জন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির এক্স-রে যন্ত্রটি বিকল। এ কারণে চিকিত্সাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে হাসপাতালে কথা হয় পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি আবদুল খালেকের সঙ্গে । তিনি বলেন, সারা দিনে একবারের বেশি নার্সের দেখা পাওয়া যায় না। জানতে চাইলে সেবিকা রাবেয়া সুলতানা বলেন, দিন-রাত তাদের দুই জনকে সেবা দিতে হয়। এরপর তিনি মা হতে চলেছেন। খুব বেশি ছোটাছুটি করতে পারেন না।
এছাড়াও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরাতন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে চিকিত্সাসেবা। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় পুরোনো ভবনে এখনো চলছে চিকিত্সা কার্যক্রম। এই ভবনের বেশির ভাগ রুমের পলেস্টার খসে পড়েছে। পুরোনো ভবনের দ্বিতীয় তলায় ‘মা ও শিশু বিভাগ’ চালু রেখে এখনো রোগী ভর্তি করা হচ্ছে। এছাড়া, নিচতলায় ল্যাব ও অন্যান্য কার্যক্রম ঝুঁকি নিয়েই করছেন কর্তব্যরতরা। সাধারণ রোগীরাও ঝুঁকি নিয়েই নিচ্ছেন চিকিত্সাসেবা।
দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, পুরোনো ভবনের দেয়াল স্যাঁতসেঁতে হয়ে গেছে। ল্যাবসহ বিভিন্ন রুমের পলেস্টার খসে পড়েছে। ২০১৮ সালে নতুন ভবন তৈরি হলেও পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় এই ভবন ব্যবহার করা হচ্ছে। এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩৩ পদের বিপরীতে রয়েছেন ১০১ জন।
এসব বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৌমেন চৌধুরী বলেন, জরুরিভিত্তিতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক চিকিত্সক ও সেবিকা নিয়োগ না দিলে চিকিত্সাসেবা দেওয়া সম্ভব নয়। পুরাতন ভবন ঝুঁকিপূর্ণ বিধায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে এবং সেবিকা নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।