ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের কর্মশালায় বক্তারা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
‘নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ পক্ষ উদ্যাপন এবং করোনাকালীন নারী-শিশু নির্যাতন ও সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা বলেছেন, সহিংসতা বা কর্মক্ষেত্রে নারীদের প্রতিবাদী হতে হবে। তবেই সমাজ থেকে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে সবাই সোচ্চার হবে। প্রতিটি থানায় নারীর জন্য আলাদা ডেস্ক আছে, সেখান থেকে নারীদের সেবা নিতে হবে। নারী নিজে এগিয়ে না এলে সমাজ থেকে সহিংসতা নির্মূল হবে না।
গতকাল মিরপুর-২ নম্বর ওয়ার্ডে আয়োজিত কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স এই কর্মশালার আয়োজন করে।
‘সামাজিক ঐক্যের মাধ্যমে নারী ও মেয়েশিশুর প্রতি নির্যাতন প্রতিরোধ’ ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের একটি প্রকল্প, যা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড নম্বর ২ ও ৫ এবং মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার চারটি ইউনিয়নে কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো, ‘নারী-শিশুর সমতা ও সাম্যের ভিত্তিতে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়িত হয়ে তাদের অধিকার রক্ষায় সচেতন করা।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. সাজ্জাদ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ২, ৩ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর বেগম মেহেরুন নেছা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংস্থার পরিচালক (প্রোগ্রাম ও প্ল্যানিং) মো. জাহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্য রাখেন প্রকল্প সমন্বয়কারী সাফিয়া সামি। আরো উপস্থিত ছিলেন পল্লবী থানার কর্মকর্তা ফয়সল হোসেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ড সচিব সামিউল ইসলাম, সমাজসেবা কর্মকর্তা, বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষক, স্কুল কমিটির সদস্য, কাজি, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি ও প্রকল্পের গ্রুপ সদস্যরা।
বক্তারা বলেন, কেউ যদি বাল্যবিবাহ দেওয়ার জন্য কাজির ওপর চাপ সৃষ্টি করেন, তাহলে কাউন্সিলর বা পুলিশকে জানাতে হবে। তারা বলেন, একটি পরিপক্ব গাছ থেকে যেমন ভালো ফল হয়, তেমনি একটি পরিণত মেয়ের গর্ভে সুস্থ সন্তান জন্মায়। বাল্যবিবাহ দিলে পরিবার রক্ষা পায় না, বরং পরিবারটি আরো বিপদে পড়ে, বিষয়টি বোঝাতে হবে। দুস্থ নারীদের পুনর্বাসনে সমাজসেবা সহায়তা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে সেলাই মেশিন ও কম্পিউটার কেনার জন্য ঋণের সুবিধা আছে। এ ক্ষেত্রেও সঠিক ব্যক্তিকে বাছাই করতে হবে, যার ঋণ ও পুনর্বাসন দরকার।