শ্রমিক-কর্মচারী ও চাষিদের বিক্ষোভ অব্যাহত

পাবনা সুগার মিলসহ দেশের ছয়টি চিনিকল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ খাদ্য ও চিনিশিল্প করপোরেশন থেকে গত বুধবার পাবনা সুগার মিলে এই ঘোষণাপত্র পাঠানো হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক পত্রে চলতি আখ মাড়াই মৌসুমে ১৫টি চিনিকলের মধ্যে অধিকতর বিবেচনায় ৯টি চিনিকলের উত্পাদন পরিচালনা করা ও ছয়টি মিলে আখ মাড়াই না করার প্রস্তাব করা হয়।

স্থগিতকৃত চিনিকলগুলোর মধ্যে রয়েছে—পাবনা সুগার মিল, কুষ্টিয়া সুগার মিল, পঞ্চগড় সুগার মিল, শ্যামপুর সুগার মিল, রংপুর সুগার মিল ও সেতাবগঞ্জ সুগার মিল।

এদিকে এ ঘোষণার পর থেকেই শ্রমিক-কর্মচারী ও আখচাষিদের দফায় দফায় বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে সুগার মিলের সামনে ঈশ্বরদী-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করা হয়। ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভে রাস্তার দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। অবরোধকারীরা রাস্তায় শুয়ে, বসে ও টায়ার জ্বালিয়ে মিল বন্ধের প্রতিবাদে স্লোগান দেন। র্যাব ও দাঙ্গা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের মহাসড়ক ছেড়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানালে শ্রমিকরা মিল গেটের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।

মন্ত্রণালয় কর্তৃক করপোরেশনে পাঠানো ঘোষণাপত্রের সারসংক্ষেপে বলা হয়, চিনি আহরণের হার, আখের জমি, মিলের অবস্থা/দক্ষতা, লোকসান ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বিবেচনায় ছয়টি মিলে আখ মাড়াই না করার প্রস্তাব করা হলো।

এতে আরো বলা হয়, যেসব মিলে চলতি মৌসুমে আখ মাড়াই করা হবে না সেসব এলাকায় উত্পাদিত ও কৃষকের সরবরাহকৃত আখ নিকটস্থ চালু চিনিকলে পরিবহন করে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। উত্পাদন স্থগিতকৃত মিল হতে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চালুকৃত মিলে সংযুক্ত/বদলিপূর্বক সমন্বয় করা হবে। পরবর্তী মৌসুমে ছয়টি চিনিকলের সঙ্গে ফরিদপুর ও রাজশাহী চিনিকলেও আখ মাড়াই স্থগিতের পরিকল্পনা গ্রহণের কথা উল্লেখ রয়েছে।

পাবনা চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান উজ্জল জানান, বৃহস্পতিবার ঢাকায় আখচাষি ফেডারেশনের সঙ্গে মিটিং করে সম্মিলিতভাবে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

গোবিন্দগঞ্জে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, আখ মাড়াই বন্ধের প্রতিবাদে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ রংপুর চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারী ও আখচাষিরা বুধবার সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। তারা টায়ার জ্বালিয়ে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এ সময় উভয় দিকে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে।

অবরোধ চলাকালে বক্তব্য দেন রংপুর চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আবু সুফিয়ান, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, সহসম্পাদক ফারুক হোসেন, কোষাধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, আখচাষি কল্যাণ গ্রুপের সভাপতি জিন্নাত আলী প্রধান, সহসম্পাদক আবদুর রশিদ, ইক্ষু উন্নয়ন কর্মী সংসদের সম্পাদক শাহজাহান আলী প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প সংস্থার চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রকল্পের নামে সীমাহীন দুর্নীতি, অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয়, বিলাসবহুল গাড়িসহ সব ধরনের কেনাকাটায় ব্যাপক লুটপাটের জন্য পুরো সংস্থাই লোকসানের মুখে পড়েছে। চিনিশিল্প আধুনিকায়নের নামে বিশ্বব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের টাকা পরিশোধ না করে সব চিনিকলকেই ঋণে জর্জরিত করে বিদেশে প্রচুর টাকা পাচার করেছেন এই আমলারা। এখন তাদের অপকর্মের ভার সাধারণ চাষি ও শ্রমিকদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান দেশের সব চিনিকল বন্ধ করার মাধ্যমে চিনিশিল্পটাকেই ধ্বংস করার অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।