বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালের বিচারকের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। রাষ্ট্রপক্ষের একজন সাক্ষীকে রিকল এবং জেরা হুবুহু রেকর্ড না করার অভিযোগে এই অনাস্থা জানিয়ে আদালত কক্ষ ত্যাগ করেন আইনজীবীরা।
এরপর বিচারক অনাস্থা আবেদনের ওপর শুনানির জন্য রবিবার দিন ধার্য করেন। আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান।
এই ট্রাইব্যুনালে আবরার হত্যা মামলার বিচার চলছে। এরই মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষের ৬০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বিচার বিলম্বিত করতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এমন কৌশল নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি স্পেশাল পিপি আবু আবদুল্লাহ ভূ্ঞা।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, এই আদালতে বিচার চললে আমরা ন্যায়বিচার পাব না। এ কারণে মামলাটি অন্য আদালতে স্থানান্তরের আবেদন করা হয়েছে। যদি না হয় তাহলে হাইকোর্টে আবেদন করা হবে।
গত বছরের ৬ অক্টোবর রাতে আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় করা মামলায় ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেয় ডিবি পুলিশ। চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে ২২ জন আসামি কারাগারে রয়েছেন। বাকি তিন জন পলাতক।
গতকাল এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ৩৩ নম্বর সাক্ষী সিআইডির বিশেষজ্ঞ রকিবুল হাসানের দেওয়া সাক্ষ্য রিকল করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত দেয় আদালত। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, তাদের না জানিয়ে এই সাক্ষীকে রিকল করা হয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষের ৩১ নম্বর সাক্ষী ডা. সোহেল মাহমুদ সাক্ষ্য দেওয়ার সময় যে জবানবন্দি দিয়েছেন, তা কম্পিউটারে কম্পোজ করা ছিল। তার জবানবন্দি আগেই নথিতে জবানবন্দি হিসেবে সন্নিবেশিত হয়েছে। তাছাড়া আসামিপক্ষের বিভিন্ন সাক্ষীকে জেরার বিষয় হুবুহু রেকর্ড করা হয়নি, যা আইনসম্মত নয়। এতে ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছে। এরপরই আইনজীবীরা আদালত কক্ষ ত্যাগ করেন।