দুদকে হাজির হতে হচ্ছে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট জান্নাতুল ফেরদৌসি রূপাকে। আগামী ২৭ জানুয়ারির মধ্যে তাকে হাজির হওয়ার জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। দুদকের হাজিরার নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তার দায়েরকৃত রিট আবেদন খারিজ করে বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়।
আদেশে হাইকোর্ট বলে, যেখানে দুর্নীতি হবে সেখানেই ব্যবস্থা নেবে দুদক। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। দুর্নীতি এখন মারাত্মক মানসিক ও সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। দুর্নীতি বন্ধ করতেই হবে।
এর আগে গত ২৮ অক্টোবর দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম ডিএজি রূপাকে নোটিশ পাঠান। নোটিশে বলা হয়, রূপার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ঘুষ গ্রহণপূর্বক জি কে শামীমসহ বিভিন্ন আসামির সঙ্গে আঁতাত করে জামিন করিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়াসহ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় উল্লিখিত অভিযোগ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার লক্ষ্যে আগামী ৪ নভেম্বর সকাল ১০টায় রেকর্ডপত্র/কাগজপত্রসহ দুদকে হাজির হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।
এই নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন রূপা। রিট বিচারাধীন থাকাবস্থায় কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হন তিনি। পরে রিটের শুনানি মুলতবি করা হয়। গতকাল ঐ রিটের ওপর শুনানি হয়। শুনানিতে রূপার পক্ষে আইনজীবী শফিক আহমেদ, জেড আই খান পান্না, সালাহ উদ্দিন দোলন, সুরাইয়া বেগম, মাহবুব শফিক এবং দুদকের পক্ষে আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান শুনানি করেন।
রূপার আইনজীবীরা আদালতে বলেন, জি কে শামীমের দুটি মামলায় হাইকোর্ট জামিন দেয়। ঐ জামিন আদেশ রিকল করার পর হাইকোর্টের দুটি বেঞ্চ তা বাতিল করে। দুটি বেঞ্চের মধ্যে একটি বেঞ্চের আইন কর্মকর্তা রূপাকে নোটিশ দিয়েছে দুদক। কেউ উদ্দেশ্যমূলকভাবে দুদকে অভিযোগ দিয়েছে। এ কারণে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের নোটিশ আইনজীবীদের জন্য হুমকিস্বরূপ। আইনজীবীরা কোর্টকে সহায়তা করেন। এ কারণে যদি মামলা হয় তাহলে কোনো আইনজীবীই নিরাপদ নয়। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, আপনারা কি বলতে পারেন সব আইনজীবীই সত্ ও দুর্নীতিমুক্ত? তারা কি আইনের ঊর্ধ্বে? কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। উনার নৈতিক ভিত শক্ত হলে দুদকে যাবেন, ব্যাখ্যা দেবেন।
দুদকের কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের জন্যই এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশ দেওয়া মানেই তিনি অভিযুক্ত নন। নোটিশের পর অনুসন্ধান হয়।
তিনি বলেন, দুদকের ক্ষমতা রয়েছে, যে কাউকে নোটিশ দেওয়ার। তবে বেআইনি কিছু হলে সেখানে হস্তক্ষেপের এখতিয়ার কোর্টের রয়েছে।
উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রিট আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে আদালত বলে, যেহেতু রিটকারী কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছিলেন। সেজন্য মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে দুদকে হাজিরার জন্য ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হলো।