বানারীপাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা
বানারীপাড়ায় প্রচণ্ড শীতেও এখন আর পাওয়া যাচ্ছে না গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের খেজুর রস। সময়ের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে খেজুর গাছ। আগে শীতের মৌসুম এলে রস আহরণকারী গাছিরা গ্রামের পর গ্রাম ঘুরে রস আহরণের জন্য খেজুর গাছ চেঁছে পাইল করতেন। কয়েক দিন পর খেজুর গাছ থেকে রস নামানোর জন্য পাইল কেটে গাছে হাঁড়ি পাতার ব্যবস্থা করতেন। গাছে হাঁড়ি উঠলেই শুরু হতো পিঠা, গুড় আর পায়েস খাওয়ার উত্সব। সেই উত্সব এখন আর হয় না বললেই চলে। অনেক পরিবার তাদের জীবিকানির্বাহ করত খেজুর রস বিক্রির মাধ্যমে। উপজেলার সৈয়দকাঠি গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব গাছিয়া আ. হক জানান, যখন পালাক্রমে গাছ কাটতাম তখন ৪০/৫০ হাঁড়ি খেজুর রস বিক্রি করতাম, এখন ইটভাটাদের লইগ্গা সেরকম গাছও নেই আর রসও নেই। পরিবেশ নিয়ে কাজ করেন মো. খালেদ হোসেন। তিনি জানান, ইটভাটায় বেশির ভাগ খেজুর গাছ দিয়ে ইট পোড়ানো এবং কম খরচে ঘর নির্মাণের জন্য খেজুর গাছ ব্যবহার করায় গাছের সংখ্যা কমেছে। যার ফলে এখন আর দেখা মেলে না শীতের সকালে কুয়াশা ভেদ করে পাড়ার বাজারে, গলির মোড়ে গাছিদের রসের হাঁড়ির পসরা।