নীতিমালার অভাবে মাতারবাড়ী এলপিজি টার্মিনাল
প্রকল্পে বিনিয়োগ প্রস্তাব মূল্যায়নে জটিলতা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
নির্মাণাধীন মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দরে একটি ডেডিকেটেড এলপিজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। এজন্য দুটি জাপানি কোম্পানির কাছ থেকে প্রস্তাবও গ্রহণ করেছে বিপিসি। তবে প্রস্তাবগুলো মূল্যায়নের জন্য নির্ধারিত কোনো মাপকাঠি বা ক্রাইটেরিয়া নেই। ফলে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না বিপিসি। এছাড়া প্রস্তাবিত এলপিজি টার্মিনালের জন্য কোনো সম্ভাব্যতা সমীক্ষাও পরিচালনা করেনি বিপিসি কিংবা জ্বালানি বিভাগ। সুনির্দিষ্ট নীতিমালার বিষয়টি বিবেচনা করার সুপারিশ করেছে বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে তিতাস গ্যাসের মাত্রাতিরিক্ত অপচয় রোধে দেশব্যাপী প্রিপেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রম বেগবান করার পাশাপাশি কমিটি তিতাস গ্যাসের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে। গ্যাসের বিল হালনাগাদ করাসহ সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বকেয়া বিল যথাসময়ে আদায় করার ব্যাপারেও কমিটি তাগিদ দিয়েছে।
সংসদীয় কমিটি সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রথম গভীর সমুদ্র বন্দর মাতারবাড়ীর বহুমুখী ব্যবহারের সম্পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এখানে গড়ে তোলা হবে তিনটি পৃথক টার্মিনাল। এগুলো হচ্ছে কয়লা আমদানির জন্য কয়লা টার্মিনাল, এলএনজি আমদানির জন্য এলএনজি টার্মিনাল এবং এলপিজি আমদানির জন্য এলপিজি টার্মিনাল। জাপানি উন্নয়ন সংস্থা জাইকার অর্থায়নে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর এবং এর টার্মিনালগুলো নির্মিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতবছর জাপান সফরে গেলে জাপান সরকার এসব প্রকল্পে অতিরিক্ত ৩.২ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দেয়। পাশাপাশি এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে একটি প্রতিশ্রুতি আদায় করে যে, এই টার্মিনাল প্রকল্পগুলো জাপানি কোম্পানির বিনিয়োগের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। বাংলাদেশ সরকার পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিতে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয় বিপিসিকে। এরই পরিপ্রক্ষিতে সম্প্রতি জাপানি কোম্পানি মিতসুইর নেতৃত্বে একটি কনসোর্টিয়াম বাংলাদেশ সরকারের কাছে বিনিয়োগ প্রস্তাব পেশ করেছে।
কমিটির সভাপতি শহীদুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে বৈঠক কমিটির সদস্য নূরুল ইসলাম তালুকদার, আছলাম হোসেন সওদাগর, মোছা. খালেদা খানম, বেগম নার্গিস রহমান ও নুরুজ্জামান বিশ্বাস অংশ নেন। বৈঠকে সুনীল অর্থনীতিতে (ব্লু ইকোনমি) সফলতা অর্জনের জন্য প্রণীত টাইমলাইন অনুযায়ী সকল কার্যক্রম সম্পন্নের ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়।