মোস্তাফিজুর রহমান লিটন
সিনিয়র শিক্ষক, বাংলা
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ
বিজিবি সদরদপ্তর, পিলখানা, ঢাকা।
মানুষ মুহম্মদ (স.)
১. নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ইসলামের একজন বিশিষ্ট রাসুল হযরত দাউদ (আ)। মানুষকে সঠিক পথে আনা ও সত্ পথ দেখানোর জন্য তাঁর ওপর যাবুর কিতাব অবতীর্ণ হয়। হযরত দাউদ (আ) সুমধুর সুরে যাবুর পাঠ করতেন। নদীর বিভিন্ন প্রজাতির মাছ তাঁর পাঠ শুনতে নদীর এক কোণে জড়ো হতো। আর তাই সেখানকার মানুষকে তিনি শনিবার দিন মাছ ধরতে নিষেধ করেন। আর এ কথা বলে সতর্ক করে দেন যে, ‘যারা শনিবার মাছ ধরবে তাদের ওপর সৃষ্টিকর্তা শাস্তি বর্ষণ করবেন’। কিছু লোক তাঁর কথা না শুনে নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ ধরলে সে লোকগুলো বানরে পরিণত হয় এবং মৃত্যুবরণ করে।
ঘ.হযরত দাউদ (আ) ঐ লোকদেরকে শাস্তি না দিলে তাঁর মধ্যে হযরত মুহম্মদ (স.)- এর একটি বিশেষ গুণ ফুটে উঠত-বিশ্লেষণ কর। ৪
ঘ. হযরত দাউদ (আ) ঐ লোকদেরকে শাস্তি না দিলে তাঁর মধ্যে ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের হযরত মুহম্মদ (স.)- এর ক্ষমাশীলতার গুণটি ফুটে উঠত। ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে মহানবি হযরত মুহম্মদ (স.)-এর গুণাবলিসমূহ অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এর আলোকে জানা যায়, তিনি ছিলেন ক্ষমাশীল ও মহানুভব। শত্রুর দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হলেও তিনি কখনও শত্রুকে অভিসম্পাত করেননি। কিন্তু উদ্দীপকের রাসুল হযরত দাউদ (আ) মহানবির এ ক্ষমাশীলতা গুণের বিপরীত মেরুতে অবস্থান করেছেন। উদ্দীপকের হযরত দাউদ (আ) যারা অপরাধ করতে পারে এমন লোকদের পূর্বেই সতর্কবাণী প্রদান করেছেন। শনিবার তাদেরকে নদীতে মাছ ধরতে নিষেধ করেছেন। তাঁর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কিছু লোক মাছ ধরেছে আর পরিণামে তাদেরকে বানর হয়ে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। এক্ষেত্রে হযরত দাউদ (আ) তাদেরকে যদি শাস্তি না দিতেন তাহলে তাঁর মধ্যে হযরত মুহম্মদ (স.)-এর একটি বিশেষ গুণ ফুটে উঠত, তা হলো ক্ষমা। ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের আলোকে জানা যায়, ইসলাম প্রচারের শুরু থেকেই মহানবি (স.)-এর পেছনে শত্রু লেগেছিল। সুযোগ পেলেই তারা হযরতের সঙ্গে বৈরী আচরণ করত, যুদ্ধে মেতে উঠত এবং বিভিন্নভাবে কষ্ট দিত। ওহুদের যুদ্ধে তাঁর দাঁত মোবারক ভেঙে যায় শত্রুদের আঘাতে । তায়েফে সত্য প্রচার করতে গিয়ে শত্রুর পাথরের আঘাতে তিনি প্রায় মৃত্যুর দুয়ারে চলে গিয়েছেন, তথাপি শত্রুদের প্রতি তাঁর কোনো ক্ষোভ ছিল না। তিনি চাইলেই মহান আল্লাহ শত্রুদেরকে নিপাত করে দিতেন। কিন্তু তিনি তা চাননি, কারণ তিনি সবসময়ের জন্য ছিলেন ক্ষমাশীল। ক্ষমার এই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত শতভাগ রূপ নিয়েছে মক্কা বিজয়ের সময়। যখন তিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হয়েও সকল পাপী ও অপরাধীকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। উদ্দীপকের হযরত দাউদ (আ) শত্রুদের প্রতি এমন ক্ষমা প্রদর্শন করেননি। যদি করতেন তাহলে তিনিও হযরত মুহম্মদ (স.) এর এই বিশেষ গুণে গুণান্বিত হতেন। কিন্তু তিনি তা না করে বরং পাপীদের শাস্তি প্রদান করেছেন। এটি হযরত মুহম্মদ (স.)-এর গুণের বিপরীত। ক্ষমাশীলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি উদ্দীপকের দাউদ (আ)। পরিশেষে বলা যায়, পৃথিবীর ইতিহাসে হযরত দাউদ (আ) এবং হযরত মুহম্মদ (স.) দুজনই অমর চরিত্র। তবে ক্ষমা গুণের জন্য হযরত মুহম্মদ (স.) অনন্য।
এই গুণটি তাঁর মধ্যে যেভাবে ফুটে উঠেছিল আজ পর্যন্ত দ্বিতীয় কেউ এটিকে নিজ চরিত্রে এমনভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারেননি।