এম এইচ আরমান চৌধুরী, চকরিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
১৪ বছরেও শেষ হয়নি কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সঙ্গে মহেশখালীর সংযোগ সেতু ও উজানটিয়া ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ করিয়ারদিয়া সেতুর কাজ। ২০০৬ সালে সেতু দুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। দ্বীপ উপজেলার মহেশখালীর উত্তর প্রান্ত ঘেঁষে মাতামুহুরি নদী বঙ্গোপসাগরে মিশেছে পেকুয়ার উজানটিয়া নদী হয়ে। এই উজানটিয়া নদীর মোহনা অভিমুখে ২০০৬ সালের মে মাসে ২৪০ মিটার দীর্ঘ পেকুয়া-মহেশখালী সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। একই সময়ে উজানটিয়ার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ করিয়ারদিয়া জনপদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে সৈকত বাজার এলাকায় উজানটিয়া নদীর ওপর ১৮০ মিটার দীর্ঘ আরো একটি সেতুর কাজ শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সে সময় এ দুটি সেতুর পিলারের কাজ শেষ করা হয়। এরপর এক-এগারোর সময় কাজ থমকে যায়। সেই থেকে গেল চৌদ্দ বছর ধরে সেতু দুটির নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সেতু দুটির নির্মাণব্যয় ধরা হয় যথাক্রমে ৫ কোটি ৪৫ লাখ ও ৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।
নির্মাণস্থল ঘুরে দেখা গেছে, করিমদাদ মিয়ার ঘাট এলাকায় পেকুয়া-মহেশখালী সংযোগ সেতুটির উদ্বোধনের নামফলক ক্ষয়ে গেছে। নদীর তলদেশ থেকে নির্মাণ করা পিলারগুলো পানির স্রোতে কাত হয়ে যাচ্ছে। পিলার ভেঙে লোহার রড কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা জানান, সেতু দুটি নির্মিত হলে উজানটিয়া ও মাতারবাড়ী ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের নতুন দ্বার খুলে যাবে। করিয়ারদিয়া এলাকার বাসিন্দা পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি জিয়াবুল হক জিকু বলেন, সেতু দুটি নির্মিত হলে চিংড়ি ও লবণ পরিবহনের খরচ কমে যাবে। বর্তমানে এ এলাকার বাসিন্দাদের কাদা মাড়িয়ে নৌকায় চড়ে নদী পার হতে হয়। উজানটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘এ দুটি সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছি। এসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর থেকে একটি টিম এসে পরিদর্শনও করেছে। তারা সেতু দুটি অতি শিগিগর নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু সাত বছরেও তাদের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।’ এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশলী জাহেদুল আলম চৌধুরী বলেন, সেতু দুটি নির্মাণে প্রকল্পের কার্যাদেশ অনুযায়ী মেয়াদ ছিল ২০১০ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ঠিকাদার কাজ না করায় পরবর্তী সময়ে দুই সেতুর নির্মাণকাজের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়। তিনি আরো বলেন, ‘সেতু নির্মাণ প্রকল্পে এখন টাকার সংকট রয়েছে। আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি, এই প্রকল্পের ডিপিটি সংশোধন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পাশ হলেই ফের দরপত্র আহ্বান করা হবে। তারপর শুরু হবে দুটি সেতুর নির্মাণকাজ।’