দুর্যোগ মোকাবিলায় জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক নীতিমালার তাগিদ

আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবক দিবসের অনুষ্ঠান

ইত্তেফাক রিপোর্ট

মহান মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুঃসময়ে স্বেচ্ছাসেবকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনেক জনকল্যাণমূলক কাজে অংশ নেন। জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি খাত এবং উন্নয়ন অংশীদারদের স্বেচ্ছাসেবা কার্যক্রমকে মূলধারায় আনা এবং স্বেচ্ছাসেবাকে সরকারি স্বীকৃতি প্রদানে সহায়ক হবে। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবক দিবস-২০২০ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কোভিড-১৯ এর বৈশ্বিক মহামারির কারণে বিশ্বজুড়েই মানুষ এক অভূতপূর্ব হুমকির সম্মুখীন। প্রতিদিনই পৃথিবীব্যাপী লাখ লাখ মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন, যার কারণে এখনো বৈশ্বিকভাবে মানুষ আগের জীবনে ছন্দে ফিরে আসতে পারছে না। এ ক্ষেত্রে, এ মহামারি প্রতিরোধে বিশ্বজুড়েই স্বেচ্ছাসেবকরা সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নিবেদিত এ স্বেচ্ছাসেবকরা তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এ কাজ করছেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘১৯৭৩ সালে সর্বপ্রথম ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। বাংলাদেশই এ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেয়। যে কোনো দুর্যোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে আমরা সব সময়ই অগ্রদূত হিসেবে কাজ করে গেছি।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আমরা মাদার তেরেসাকে সেবাদানের মাধ্যমে শত শত জীবন বদলে দিতে দেখেছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হতে পারেন।’

জাতিসংঘের রেসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটর মিয়া সেপ্পো বলেন, ‘এ যাবত্কালে বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবকগণ সমগ্র বিশ্বে তাদের যে নিঃস্বার্থ শ্রম দিয়ে গেছেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। তবে উন্নতির সুযোগ বা অবকাশ শেষ হয়ে যায়নি। বাংলাদেশের সামনে সুযোগ রয়েছে নিজ স্বেচ্ছাসেবীদেরকে আরো যোগ্য আর দক্ষ করে তোলার।’

ওয়াটারএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান বলেন, কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারির শুরু থেকেই মানবসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিজেদের কমিউনিটি নিরাপদ ও গতিশীল রাখতে স্বেচ্ছাসেবীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। দেশ ও জনগণের জন্য তাদের এ প্রচেষ্টার স্বীকৃতিদানেই এ অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।’ ইউএনভি বাংলাদেশের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর আখতার উদ্দিন বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবা দান একটি মহতী কার্যক্রম, যার স্পৃহাকে জাগিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে ইন্টারন্যাশনাল ভলান্টিয়ারস ডে-র মতো দিবসসমূহ পালিত হয়। বিশ্বব্যাপী সব আত্মত্যাগী স্বেচ্ছাসেবকদের অনুপ্রেরণা জোগাতে এবং তাদের একতাকে সুসংহত করতে এমন উদ্যোগসমূহের বিকল্প নেই। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আখতার হোসেন। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব দীপক চক্রবর্তী, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পিপিপিএ সিইও সচিব সুলতানা আফরোজ, টেকনিক্যাল ও মাদ্রাসা শিক্ষার সচিব আমিনুল ইসলাম খান এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আখতারুজ জামান খান কবীর প্রমুখ।