দক্ষিণাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন

বর্তমানে বাংলাদেশে অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলিতেছে। বিশেষ করিয়া দেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবকাঠামো উন্নয়নে বেশ কিছু মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হইয়াছে। বিশ্বব্যাংকের গবেষণা মতে, শুধু পদ্মা সেতু চালু হইলে বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি এক শতাংশ বাড়িয়া যাইবে। এই সেতুর শেষ স্প্যানটি এই মাসেই স্থাপিত হইবে। ইহার মাধ্যমে বদলাইয়া যাইবে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল। পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের ফলেও এতদাঞ্চলের মানুষ ব্যাপকভাবে উপকৃত হইবে। শুধু মেগা প্রকল্প নহে, ব্রিজ-কালভার্ট, রাস্তাঘাট উন্নয়নেও ব্যাপক উদ্যোগ লওয়া হইয়াছে। বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে তাহার নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নে ১৫ কোটি টাকা করিয়া বরাদ্দ দেয়। বর্তমানে এই বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়াইয়াছে ২০ কোটি টাকা। অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য এইরূপ উদ্যোগের কারণে এক দশকেরও অধিক সময় ধরিয়া দেশে গড় জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬ হইতে ৮ শতাংশের মধ্যে রহিয়াছে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলিয়াছেন যে, এই দেশে এখন আর কোনো বেইলি ব্রিজ থাকিবে না। তাহার বদলে সেখানে তৈরি করা হইবে স্থায়ী কংক্রিকের ব্রিজ। এই ব্যাপারে ইতিমধ্যেই প্রকল্প গ্রহণ করা হইয়াছে এবং অনেক স্থানে অস্থায়ী বেইলি ব্রিজগুলি পাকা ব্রিজে রূপান্তরিত হইতেছে। একইভাবে তিনি বলিয়া যাইতেছেন যে, দেশে কোনো বাঁশের সাঁকো থাকিবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর এখন বাঁশের সাঁকোগুলিও ধীরে ধীরে কালভার্ট বা ব্রিজে রূপান্তরিত হইতেছে। নদীনালা ও খালবিলে ভরপুর দক্ষিণাঞ্চলে অনেকের বাড়ির সম্মুখে যে খাল থাকে, সেইখানে প্রত্যহ চলাফিরার জন্য থাকে বাঁশের সাঁকো। সেই বাঁশের সাঁকোর উন্নয়নেও এখন কাজ চলিতেছে। ইহার ফলে দক্ষিণাঞ্চলবাসীর প্রত্যাশা ও স্বপ্ন আসলে বাড়িয়া গিয়াছে। তাহারা এখন ঘরে ঘরে ব্রিজ-কালভার্ট চাহিতেছেন। পিরোজপুর জেলার একটি উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ৫০-৬০টি ব্রিজ নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে। আরো ১০০টি সেতু নির্মাণের কাজ প্রক্রিয়াধীন। এই সেতুগুলি তৈরি করা হইতেছে এলজিইডি তথা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে। আবার দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেও ১০টি সেতু নির্মাণের কাজ চলিতেছে। আম্ফানসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে যেই সকল সেতু বিধ্বস্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছে, সেই সকল সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হইয়াছে। যেইখানে নির্মাণকাজ শুরু হয় নাই, সেখানে শিগিগরই তাহার কাজ শুরু হইবে বলিয়া জানা যায়।

গত কয়েক দশকে দক্ষিণাঞ্চলে রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্টসহ অবকাঠামোগত যে উন্নয়ন হইয়াছে, এইজন্য এই অঞ্চলের অধিবাসীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত। কোনো কোনো জেলা/উপজেলা এইক্ষেত্রে মডেলে পরিণত হইয়াছে। যেইখানে অন্য অঞ্চলে সেতু নির্মাণে রডের বদলে বাঁশ দেওয়ার কথা শোনা যায়, সেই রকম ঘটনা এখানে ঘটিতে দেখা যায় না। এখন প্রত্যাশা বাড়িয়া যাইবার কারণে যেইখানে যেইখানে নূতন করিয়া ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়াছে, সেইখানেও তাহা নির্মাণের উদ্যোগ লওয়া হইয়াছে বা হইতেছে। এখন প্রয়োজন শুধু ধৈর্য ধারণ করা। কেননা কোনো ব্রিজ রাতারাতি নির্মিত হইতে পারে না। আবার পরাধীনতার মানসিকতাও আমাদের বর্জন করা দরকার। যেই সকল উন্নয়নের সুফল আমরা পাইতেছি, তাহার জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট আমাদের শুকরিয়া আদায় করা উচিত।