শিশুর প্রশ্নের উত্তর

সাধারণত বাচ্চারা অনুকরণপ্রিয় হওয়ায় আশেপাশে ঘটে যাওয়া কাজকর্ম দ্বারা প্রভাবিত হয়। তাদের সামনে ঘটে যাওয়া যে কোনো বিষয় কেন হয়েছে, কীভাবে হয়েছে, না-হলে কী ঘটত—এসব প্রশ্ন বরাবরই তাদের মনে উঁকি  দেয়। তারা যখন এসব প্রশ্ন করে তখন বড়দের উচিত ধৈর্য সহকারে তাদের প্রশ্ন শোনা এবং যতদূর সম্ভব ইতিবাচক উত্তর দেওয়া। প্রশ্ন করার জন্য তাদের কখনোই ধমক বা বকা দেওয়া উচিত না। যখন কোনো বিষয়ে তাদের বেশি আগ্রহ দেখা যায়, তখন আমরা বড় যারা আছি তাদের প্রয়োজন বাচ্চাদের ঐ নির্দিষ্ট বিষয়ে ইতিবাচক উত্তর দেওয়া এবং এ সম্পর্কিত সবকিছু বলা। সবার বোঝা উচিত—কে বলল সেটা বড় নয়, কী বলল সেটাই বড়। এতে শিশুদের মধ্যে জানার আগ্রহ বাড়বে এবং তাদের আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করবে। তবে বাস্তবে এমনটা খুব কম হয়। শিশুরা আমাদের অনবরত প্রশ্ন করলে আমরা বিরক্ত হই, মাঝেমধ্যে রেগে গিয়ে বকা শুরু করি। মাঝেমধ্যে তারা এত কঠিন প্রশ্ন করে যে বড়রা সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে হিমশিম খাই। তবে তাদের প্রশ্ন যতই অবান্তর হোক না কেন বড়দের তা ধৈর্য সহকারে শোনা উচিত  এবং যতটুকু পারা যায় রুচিসম্মতভাবে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করা। শিশুদের জানার আগ্রহকে কখনোই চাপা দিয়ে রাখা যাবে না। তাদেরকে ধমক দিলে  বা নেতিবাচক উত্তর দিলে তাদের জানার আগ্রহ হ্রাস পায়। এতে তাদের প্রশ্ন করার যে প্রবণতা এবং কোনো বিষয় সম্পর্কে শেখার যে আগ্রহ থাকে তা ক্রমাগত  লোপ পেতে থাকে। যার প্রভাব শিশুদের ভবিষ্যত্ জীবনে পড়ে। তাই শিশুদের প্রতি হতে হবে আন্তরিক এবং তাদের প্রশ্ন যতই অযৌক্তিক হোক না কেন তা ধৈর্য সহকারে শুনে সুন্দর, সাবলীল উত্তর দেওয়ার মানসিকতা বড়দের থাকতে হবে।

সানজিদা ইয়াসমিন লিজা

আইন বিভাগ, দ্বিতীয় বর্ষ,

কুমিল্ল­া বিশ্ববিদ্যালয়