উচ্চ আদালতের নির্দেশে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বিয়ে

উচ্চ আদালতের নির্দেশে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে ধর্ষণ মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি দিলীপ খালকোর (৩০)। গতকাল শনিবার বিকেলে দিলীপ খালকোর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।

বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ধর্ষণের মামলায় আট বছর ধরে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি দিলীপ খালকো। ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিগত ২০১২ সালে নিম্ন আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। সম্প্রতি উচ্চ আদালতের শুনানিতে দিলীপের আইনজীবী ভিকটিমকে বিয়ে করার শর্তে দিলীপের জামিনের আবেদন করেন। ঐ আবেদনেরও ওপর আপত্তি জানায়নি ঐ ভিকটিম। তিনিও জামিনের পক্ষে সুপারিশ করেন। শুনানি শেষে উচ্চ আদালত জামিনের শর্ত হিসেবে কারাফটকে তাদের বিয়ের আদেশ দেয়।

বিয়ের জন্য এ দিন কনেসহ দুই পরিবারের অন্তত ১৪ জন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার প্রাঙ্গণে জড়ো হয়েছিলেন। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্যও। তাদের সঙ্গে এসেছিল ভিকটিম নারী ও দিলীপ খালকোর আট বছরের ছেলে। কারাগার কর্তৃপক্ষের আহ্বানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রার কৃষ্ণা দেবী এবং পুরহিত পরিমল চক্রবর্তী। কনেপক্ষ আসার পর কারাগার থেকে বর দিলীপ খালকোকে আনা হয়। তারপর কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুব্রত কুমার বালার উপস্থিতিতে দুপুর সাড়ে ১২টার পর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সিনিয়র জেল সুপার কনেকে একটি নতুন শাড়ি উপহার দেন। দুই পরিবারের সবাইকে মিষ্টিমুখও করানো হয়।

দিলীপ কয়েদি হিসেবে এখনো কারাবন্দী থাকার কারণে বিয়ের ছবি তোলা যায়নি। দিলীপ বলেন, ‘বিয়ে করে ভালোই লাগছে। সবাই দোয়া করবেন। যেন সুখেশান্তিতে সংসার করতে পারি।’ কনে বলেন, ‘আমরা চাই, যেন বাকি জীবনটা ভালোভাবে কাটাতে পারি।’

সুব্রত কুমার বালা বলেন, উচ্চ আদালত কারাফটকে ধর্ষণের শিকার নারীর সঙ্গে দিলীপের বিয়ে সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিন দিন আগে আদালতের আদেশের কপি পাওয়ার পরই দুই পক্ষকে ডাকা হয়। সুষ্ঠুভাবে বিয়েও সম্পন্ন হলো। এখন যত দ্রুত সম্ভব তাদের বিয়ের কাগজপত্র উচ্চ আদালতে পাঠানো হবে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম যখন ধর্ষণের শিকার হন তখন তার বয়স ছিল ১৪ বছর। কিন্তু সেই বয়সেই তার কোলে আসে পুত্র সন্তান। সন্তানের বয়স এখন আট বছর। দিলীপেরও আট বছর জেল খাটা হয়ে গেছে। কনের সম্মতিতেই আদালত তাদের বিয়ের আদেশ দেন। এখন বিয়ের কাগজপত্র উচ্চ আদালতে গেলে জামিন পেতে পারেন দিলীপ খালকো।