ভাস্কর্য ভাঙা কোনো ধর্মীয় উগ্রবাদীদের কাজ নয়, এটা দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির কারসাজি বলে দাবি করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। গতকাল দেশব্যাপী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধীদের শাস্তির দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধনের কেন্দ্রীয় সমাবেশ থেকে এ দাবি জানিয়ে অবিলম্বে দেশে এ অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত এ সমাবেশে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছের সভাপতিত্বে সমাবেশ থেকে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের গ্রেফতার করার দাবিতে আগামী ১১ ডিসেম্বর দেশের উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
গোলাম কুদ্দুছ বলেন, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা জন্য, সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য এই ভাস্কর্য ভাঙার ঘটনা ঘটছে। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার হুমকি ধর্মীয় কারণে নয়, এর পেছনে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার উদ্দেশ্য রয়েছে। ভাস্কর্য নির্মাণ যদি ধর্মবিরোধী হতো তাহলে সৌদি আরবসহ মুসলিম দেশগুলোতে ভাস্কর্য নির্মাণ করা হতো না। যেসব দেশের শাসনতন্ত্র কোরআন-সুন্নাহ মোতাবেক পরিচালিত হয়, সেসব দেশেও ভাস্কর্য রয়েছে। পাকিস্তানে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ভাস্কর্য রয়েছে, আয়তুল্লাহ খোমেনির ভাস্কর্য রয়েছে। পৃথিবীর সব মুসলিম দেশে ভাস্কর্য রয়েছে। গতকাল দেশের ৫৩টি জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য জেলাগুলো হচ্ছে—সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, পঞ্চগড়, নওগাঁ, রাজশাহী, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইল, চট্টগ্রাম, খুলনা প্রভৃতি।
ঢাকার কেন্দ্রীয় সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন পথনাটক পরিষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট মিজানুর রহমান, গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মানজারে চৌধুরী সুইট, সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদ সেলিম, নৃত্যশিল্পী সাজু আহমেদ, যাত্রা শিল্পীদের পক্ষে মিলন কান্তি দে, চারুশিল্পী পরিষদের সঞ্জীব দাস অপু, আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের আজহারুল হক আজাদ, গ্রুপ থিয়েটার পরিষদের স্বপন হাবীব, আইটিআইয়ের পক্ষে দেবপ্রসাদ দেবনাথ, রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ প্রভৃতি সংগঠন ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিগণ।