কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর, বিক্ষোভ সমাবেশ

কুষ্টিয়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে দুর্বৃত্তরা ভাস্কর্যটির অংশবিশেষ ভাঙচুর ও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া পৌরসভার সচিব কামাল উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের নামে মডেল থানায় মামলা করেছেন।

এদিকে, ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীরা গতকাল  সন্ধ্যায় জেলা বিএনপির অফিসে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর করেছে। জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক জানান, হামলাকারীরা অফিসের চেয়ার-টেবিল, টেলিভিশনসহ অন্যান্য আসবাবপত্র ভাঙচুর ও ক্ষতিসাধন করে। তবে অফিস সহকারী ছাড়া অন্য কেউ না থাকায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনায় জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি  সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী নিন্দা    জানান। এছাড়া ভাস্কর্য ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদেরও শাস্তি দাবি করেন তিনি। 

পুলিশ জানায়, শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে পূর্বে স্থাপিত দৃষ্টিনন্দন শাপলা ফুলের ভাস্কর্যটি ভেঙে গত ১৭ নভেম্বর ঐ বেদির ওপরই বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ শুরু করে কুষ্টিয়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার রাতে দুর্বৃত্তরা ভাস্কর্যটির হাতের কিছু অংশ ভেঙে দেয়। এছাড়া ভাস্কর্যের মুখমণ্ডলের ক্ষতিসাধন করা হয়। গতকাল শনিবার সকালে ভাস্কর্য ভাঙচুর ও ক্ষতিসাধনের বিষয়টি প্রকাশ পেলে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। ঘটনার প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের উদ্যোগে শহরে বিক্ষোভ-সমাবেশ করা হয়। এর আগে বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এছাড়া জেলা জাসদের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, জেলা জাসদের সভাপতি হাজী গোলাম মহসিন, জাসদ নেতা কারশেদ আলম, জেলা যুবলীগ নেতা জিয়াউল হক স্বপন, ছাত্রলীগ নেতা তুষার আহম্মেদ প্রমুখ। বক্তারা বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী ও মৌলবাদী চক্র বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত। যারা মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রকে এখনো মনেপ্রাণে গ্রহণ করতে পারেনি তারাই জঘন্য এ অপরাধে জড়িত। ভাস্কর্য ভাঙচুরে জড়িতদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন বক্তারা।

জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন ও পুলিশ সুপার তানভীর আরাফাতসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনের নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় জড়িত কেউ এখনো আটক হয়নি। তবে  জড়িতদের আটকের জোর চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ জানায়।

কুষ্টিয়া সদর আসনের এমপি মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, এটি অমার্জনীয় ও জঘন্য অপরাধ। ঘটনার সঙ্গে যে বা যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী জানান, বঙ্গবন্ধুকে যারা মানতে পারে না তারাই এ জঘন্য অপরাধ করেছে। তিনি দোষীদের শাস্তি দাবি করেন। পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত জানান, সিসি ফুটেজ পর্যবেক্ষণসহ তদন্তপূর্বক দোষীদের খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে। কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি আবুল কালাম জানান, অধিকতর গুরুত্বের সঙ্গে ঘটনাটির তদন্ত চলছে।  জড়িতরা কেউ রেহাই পাবে না।