দেশে ক্রমাগত বলাত্কারের ঘটনা ঘটলেও এ নিয়ে এখনো পর্যন্ত দেশের আলেমরা প্রতিবাদ না করে নীরব সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশ। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের এই অংশ বলছে, গত এক মাসে দেশে প্রায় ৩৫ জন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলাত্কার করা হলেও আলেমদের কোনো মন্তব্য বা প্রতিবাদ চোখে পড়েনি। নিজেদের ইসলামিক দল হিসেবে দাবি করলেও হেফাজতে ইসলামের নেতারাও বলাত্কারের ঘটনাগুলো নিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে। এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, মামুনুল হক গংরা বলাত্কারের নীরব সমর্থনদাতা।
গতকাল শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের বুলবুল-মামুন অংশ। এদিন বেলা ১২টায় মহানবি (স.) ও বঙ্গবন্ধুর অবমাননা, বলাত্কারে সমর্থনদানের অভিযোগে মামুনুল হকের গ্রেফতারসহ সাত দফা দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।
দাবিগুলো হলো—বলাত্কার ও এর সমর্থনদাতাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করা, প্রতিটি উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করা, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, ধর্মীয় সভা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় উসকানিমূলক গুজব ও অপপ্রচারকারীদের আইনের আওতায় আনা, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়ন বন্ধে মনিটরিং সেল গঠন করে নজরদারি বাড়ানো, মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত জাতীয় সংগীত পতাকা উত্তোলন, শহিদ মিনার নির্মাণ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেওয়ার হুমকি ও ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করে ফয়জুল করীম ও মামুনুল হক রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধ করেছেন। এর মাধ্যমে তারা দেশের সংবিধানেরও বিরোধিতা করেছেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর সৈয়দ ফয়জুল করীম ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মামুনুল হকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করার কথা জানিয়েছেন মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আজ রবিবার ঢাকার সিএমএম কোর্টে এই মামলা করা হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
মামুনুল হকের বিরুদ্ধে মহানবি (স.)-এর অবমাননার অভিযোগ এনে আল মামুন বলেন, সম্প্র্রতি একটি ইসলামী ধর্মসভায় মামুনুল হক মহানবি (স.) কীভাবে ঠোঁট নাড়াতেন এটা তিনি নাকি দেখেছেন এবং হুবহু বলে দিতে পারবেন বলে মন্তব্য করেছেন। ইসলামের দৃষ্টিতে মহানবি (স.)-এর কোনো অবয়ব দেখানো সম্পূর্ণ হারাম। ধর্ম ব্যবসায়ী মামুনুল হক প্রকাশ্য দিবালোকে মহানবি (স.)-এর অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে নবিজিকে অবমাননা করেছেন।