শুক্রবার দোহায় বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাই ম্যাচে স্বাগতিক কাতারের বিপক্ষে বাংলাদেশ ০-৫ গোলে হেরেছে। ফুটবল অঙ্গনে এই হার নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন কাতারের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারবে সেটা আগেই জানা ছিল।
কারণ কাতার এশিয়ার ফুটবলের বড় মঞ্চে এখন আলোচিত ফুটবল শক্তি। ফুটবলে তাদের অর্থ বিনিয়োগ অকল্পনীয়। এই দেশ ২০২২ সালে ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজন করবে। যেখানে জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়াকে যৌথভাবে বিশ্বকাপ দেয়া হয়েছিল। আর কাতারকে দেয়া হয়েছে এককভাবে। যে কারনেই দেয়া হোক তারা বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। সরাসরি বিশ্বকাপে খেলবে। ফিফার র্যাংকিংয়ে কাতার ৫৯ এবং বাংলাদেশ ১৮৪ নম্বরে। এতো শক্তিধর একটি ফুটবল দেশের বিপক্ষে বাংলাদেশ আরো বড় ব্যবধানে হারেনি এটাই বড় কথা।
তবে হারজিতের চেয়ে বড় কথা হচ্ছে বাংলাদেশ কতোটা পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পেরেছিল। রক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি কাজ হয়েছে। অথচ সেই রক্ষণ ছিল একেবারেই নড়বড়ে। বালির বাধের মতো ভেঙ্গে গিয়েছে। স্রোতের মতো আক্রমণ করেছে কাতার। সামাল দেয়ার এতোটুকু শক্তি বা সামর্থ্য ছিল না। কাতারের ফুটবলারদের স্কীল, ষ্ট্যামিনায় অনেক পিছনে পড়ে থাকতে হয়েছে। এতো অগোছালো ফুটবল খেলল। কাতার কেমন খেলল তার চেয়েও বড় কথা হচ্ছে বাংলাদেশের ফুটবলারদের এতোটা বাজে পরিস্থিতি হলোই বা কেন।
কাতারে সংবাদিকাদের সঙ্গে কোচ জেমি ডে ফিটনেস ঘাটতির কথা বলে অজুহাত দেখিয়েছেন। কাতার চার মাস প্রস্তুতি নিয়েছে। আর বাংলাদেশ প্রস্তুতি নিয়েছে মাত্র চার সপ্তাহ। কাতারের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে লড়াই করা কঠিন। দোহা হতে ইংল্যান্ড ফিরে যাওয়ার আগে সেখানে কথা বলেন জেমি। তিনি বলেন,‘করোনার কারণে ছেলেরা ফুটবল খেলতে পারেনি।’ কাতারও করোনার কারণে খেলতে পারেনি।
৪ ডিসেম্বর বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ খেলার জন্য কাতার প্রস্তাব করেছিল বাংলাদেশকে। আর বাংলাদেশ সেটা গ্রহণ করেছে। অথচ এটা ফিফার ঘোষিত তারিখ ছিল না। কাতারের মতো শক্তিশালী ফুটবল দেশের বিপক্ষে যেমনটা প্রস্তুতি থাকা উচিত ছিল সেটা গ্রহণ করতে কেউ বারণ করেনি। অভিযোগের বল ঠেলে দেয়া হচ্ছে বাফুফের দিকে। কাতারকে ঠেকাতে হলে কতটুকু প্রস্তুতি দরকার, সেটা কোচের চেয়ে আর কে বুঝবে। কোচ কেন রাজি হলেন।
সাবেক তারকা ষ্ট্রাইকার শেখ মোঃ আসলাম বর্তমান ফুটবলের প্রতি খুবই বিরক্ত। যার রক্তে মিশে আছে ফুটবল, সেই মানুষ এখন ফুটবল নিয়ে কথাই বলতে চান না। অনুরোধে আসলাম বললেন,‘নেপালকে হারিয়ে প্লেয়াররা মনে করেছিল কনফিডেন্স বেড়ে গিয়েছে। আগে নিজেকে জানতে হবে। তারপর বলা উচিত। খেলার আগে খেলে ফেললে হবে না।’
ইত্তেফাক/এসআই