শীতকালীন ক্যাম্পাস উদ্যোক্তা

বর্তমানে করোনার থাবায় প্রায় আট মাস

ক্যাম্পাস বন্ধ। কিন্তু থেমে নেই উদ্যোক্তারা। এই শীতকালীন মৌসুমেও তারা বন্ধ ক্যাম্পাসে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পৌঁছে দিচ্ছেন তাদের পণ্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তাদের উদ্যোক্তা হওয়ার পিছনে যে কারণ,

সেই গল্পগুলো তাদের মুখেই শুনি—

রাসেদ রহমান

শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

আমরা (আমিসহ আমার আরো দুই বন্ধু) ক্যাম্পাসে শীতকালীন প্রোডাক্ট হুডি নিয়ে কাজ করছি। আমরা মূলত যারা নোয়াখালী থেকে প্রোডাক্ট নিবে বা নিচ্ছে, তাদের নোয়াখালী সুপার মার্কেটের সামনে থেকে প্রোডাক্ট নিয়ে যেতে বলেছি। আর যারা নোয়াখালীর বাইরে আছেন, তাদেরকে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আমরা প্রোডাক্ট ডেলিভারি দিচ্ছি। এবারের এই ব্যাবসায়িক প্রজেক্টটা আমাকে ভবিষ্যতে আরো বড় প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন ম্যানেজমেন্ট, সেলস, প্রোডাকশন, ডিমান্ড ইত্যাদি অনেক কিছু শিখতে সাহায্য করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম থেকেই আমার ইচ্ছে ছিল, হুডি নিয়ে কাজ করব। এছাড়া বন্ধুবান্ধবসহ বড় ভাই-আপুদের দেখতাম যে, হুডির কাপড়সহ আরো অনেক খুটিনাটি বিষয়ে অনেক কমপ্লেইন করে। সেই কথা মাথায় রেখেই মূলত এই প্রজেক্টে নেমেছি। আমরা চাচ্ছি যে, কেউ যাতে কোনো প্রকার কমপ্লেইন করতে না পারে, ঐ রকম সার্ভিস দিতে। দেশে যেভাবে চাকরির অভাব চলছে তাতে আমি মনে করি, সবাই যদি নিজের পরিসরে থেকে কিছু করার চেষ্টা করে তাহলে যেমন চাকরির পেছনে অতো ছুটতে হবে না এবং আপনার মাধ্যমেই হয়তো আরো অনেকের চাকরি ক্ষেত্র তৈরি হবে।

কাউসার

শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

করোনাকালীন এই সময়ে অনেক দিন ধরেই কিছু একটা করার চিন্তা বারবার মাথায় ঘুরছিল। হঠাত্ করেই চিন্তা করলাম শীত যেহেতু চলে আসছে আমরা শীতকালীন হুডি নিয়ে কিছু একটা করতে পারি। করোনার কারণে সবাই আলাদা থাকলেও যাতে সবাই ভার্সিটির হুডি গায়ে দিতে পারে তার জন্য আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব ছাত্র এখন নোয়াখালীর বাইরে রয়েছে আমরা তাদেরকে কুরিয়ার সার্ভিসে আমাদের হুডিগুলো পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। আমরা চেষ্টা করছি, যাতে আমাদের প্রোডাক্টের সর্বোচ্চ গুণমান বজায় থাকে।

মূলত এই প্রথম বারের মতো এই কাজে নেমে ভালো কিছু অভিজ্ঞতা সঞ্চার করেছি। কীভাবে মানুষের কাছে নিজের প্রোডাক্টগুলোকে ভালোভাবে উপস্থাপন করা যায়, কীভাবে সবার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা যায় এমন ভালো, খারাপ অসংখ্য অভিজ্ঞতা হচ্ছে। তবে খারাপগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে আর ভালো অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে সামনে এগিয়ে চলতে চাই। একজন ছাত্র হিসেবে এই সকল অভিজ্ঞতা আমাদেরকে অনেক বেশি উপকৃত করবে। আমাদের চিন্তাধারাকে প্রসারিত করে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। আর একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আমি বলব, ছাত্রজীবনে ভিন্ন কিছু করতে হলে এরকম অবশ্যই কিছু করা দরকার।